হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের এক নেতার বাড়ি থেকে একটি পিস্তল ও তিনটি গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া দেশীয় শতাধিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামের ইউপি সদস্য কাজী জানে আলম ও মতি মিয়া তালুকদারের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য তোফাজ্জল হক তালুকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত বুধবার গ্রামের কয়েক শিশুর ঝগড়া হয়। বিষয়টি রাতে মীমাংসা করে দেন কাজী জানে আলম। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে তোফাজ্জল তালুকদারের লোকজন হামলা চালিয়ে জানে আলমকে আহত করে।
খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কাজী আব্দাল মিয়া, কাজী আবদুল্লাহ, কাজী বেনু মিয়া, কাজী কবির আনছারী, স্বপন মিয়া, আবুল খায়ের, সালমান মিয়া, তোফায়েল মিয়া, কাজী জানে আলম, বাছির মিয়া, কাজী মাছুম, কাজী নোমান, কাজী মনির, শামীম মিয়া, কাজী জুয়েল, ফারুক মিয়া, ফখরুল মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, নোমান মিয়া, সালেক মিয়া, সোহেল মিয়া ও রাহাত মিয়াকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া আটজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা ও সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তোফাজ্জল হক তালুকদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বিছানার নিচ থেকে একটি পিস্তল ও তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে শতাধিক টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ও ঢাল উদ্ধার করা হয়েছে।
