কর্মক্ষেত্রসহ বিমানবন্দর, বাস ও রেলওয়ে স্টেশন এবং শপিং মলের মতো পাবলিক প্লেসে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ ও ‘বেবি কেয়ার কর্নার’ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের যুগ্ম-বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
একই সঙ্গে পাবলিক প্লেস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনে নীতিমালা তৈরি করতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার নিরাপদে মায়ের বুকের দুধ পানের পরিবেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে নয় মাস বয়সের ছোট্ট শিশু উমাইর বিন সাদী। তার পক্ষে রিট আবেদনের বাদী হয়েছেন তার মা অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
জানা গেছে, উমাইর মায়ের সঙ্গে সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিল। বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফেরার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিপদে পড়ে সে। প্রচণ্ড ক্ষুধায় কান্না জুড়ে দেয় উমাইর। কিন্তু তার মা তাকে দুধ খাওয়ানোর কোনো পরিবেশই পাচ্ছিলেন না।
ক্ষুধায় শিশুটির কান্না বেড়েই যাচ্ছিল। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করেও শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না অসহায় মা। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের চেকিংয়ে দায়িত্বরত এক কর্মীকে রাজি করিয়ে সেখানে দুধ খাওয়ানো হয় শিশুটিকে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আবদুল হালিম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও জামিউল হক ফয়সাল।
রিটে বলা হয়, এমন পরিবেশে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপন করতে হবে, যেখানে কোনো মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কোনো অস্বস্তি বোধ করবেন না বা যৌন হয়রানির শিকার হবেন না।
রিটকারী শিশুর মা ইশরাত হাসান বলেন, ‘অনেক কর্মস্থলে এবং বাস, ট্রেন স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় মায়েদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিরাপদ পরিবেশের অভাব ও যৌন হয়রানির ভয়ে মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। আমার মতো হাজার হাজার মা এই সমস্যার মুখোমুখি হন।’
