পাটগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াও আটকাতে পারেনি মানুষকে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৫৮ পিএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার নবীনগর সীমান্তের সাব পিলার এস-১১-এর নো ম্যান্স ল্যান্ডে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। এ সময় দুই বাংলার মানুষের মেলবন্ধনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ সেখানে তাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন ও কুশল বিনিময় করেন। একে অপরকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেন।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতি বছরই কালীপূজা উপলক্ষে এই সীমান্তে দুই বাংলার মানুষ মিলনমেলায় মিলিত হন। পাসপোর্ট করতে সামর্থ্যহীন লোকজন অপেক্ষা করেন এই দিনটির জন্য। বাংলাদেশের লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলাগুলো ও ভারতের কুচবিহারসহ আশপাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন স্থান থেকে বাংলা ভাষাভাষীরা এখানে মিলিত হন।

এদিন সকাল থেকেই দু’দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া মুসলমানরাও আত্মীয়স্বজনদের একনজর দেখার জন্য ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার দু’পাশে ভিড় জমাতে থাকেন। এ সময় উভয় দেশের লোকজন তাদের আপনজনদের দেখে আবেগাপ্লyত হয়ে পড়েন ও কুশল বিনিময় করেন।

নীলফামারীর ডিমলা থেকে আসা নরেশ্বর চন্দ্র (৫০) বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ি কুচবিহারের ধুনিয়া গ্রামে। চার বছর পর তাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

হাতীবান্ধার ধুবনী থেকে আসা সীমা রানী (২৮) বলেন, ‘আমার মাসি ও দাদুর সাথে দেখা হয়েছে। অনেক দিন পর দেখে বুকটা ভরে গেছে।’

বাউরা ইউনিয়নের খোকা বাবু (৮৫) বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে দিয়েছি ভারতের শিলিগুড়িতে। প্রতি বছর কালীপূজায় সীমান্তে গিয়ে মেয়ের সাথে দেখা করি। এভাবে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমরা খুবই খুশি।’

এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে দেখতে আসা লোকজনের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত