জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ডাকাতের দেওয়া পেট্রোলের আগুনে নিহত যুবক ইমরানের লাশ দেশে নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে নিহতের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মরদেহ এসে পৌঁছায় এবং মধ্যরাতে বাড়ি আসে।
নিহত ইমরানের প্রতিবেশী আবু বকর শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইমরান শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়াখণ্ড ইউনিয়নের মুজাফরপুর খলিফাকান্দি এলাকার দুদু মিয়া খলিফার ছেলে।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ইমরানের প্রথম জানাজা শেষে তার পরিচিত বাংলাদেশিরা তার মরদেহ ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুলে দেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। ইমরানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শোক নেমে আসে পুরো এলাকায়। শেষ বারের মতো ইমরানকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমায় তার বাড়িতে।
উল্লেখ্য, আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় দরিদ্র বাবা জমি বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে দেড় বছর আগে বিদেশে পাঠায় একমাত্র পুত্র সন্তানকে। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে ওখানকার ওরেঞ্জফার্ম এলাকায় একটি দোকান দেন ইমরান। বেশ ভালোই চলছিল তার ব্যবসা। কিন্তু ধার করা টাকা পরিশোধ করার আগেই জীবন দিতে হলো তাকে।
গত ২১ অক্টোবর রাতে বন্দুকধারী একদল ডাকাত এসে হানা দেয় তার দোকানে। সর্বস্ব লুট করে ডাকাতি শেষে দোকান আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ডাকাতেরা।
এ সময় দোকানের ভেতর আটকা পড়ে দগ্ধ হন ইমরান। গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অন্য প্রবাসীরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোরে তার মৃত্যু হয়।
