দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন ও আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে গত ৩১ অক্টোবর পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
এর আগে পুলিশ ৩০ অক্টোবর বিকেলে জালিয়াত চক্রের সন্দেহভাজন সদস্য পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নৈশ প্রহরী এস্রারাফুল আলমকে (৪২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাকেও জালিয়াতির মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্যা আসামিরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলার চ-ীপুর ইউনিয়নের উত্তর শালন্দার সরদারপাড়ার আবদুল আজিজের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ওরফে ভোলা বিডিআর (৬০), একই গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (২৮), মৃত চান মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৫), পার্শ্ববর্তী বড়হরিপুর সাহাপাড়ার আজিমউদ্দিনের ছেলে হাসান আলী (৫০) ও বড়হরিপুর পোদ্দারপাড়ার বীরেন্দ্র মহন্তের ছেলে সুমন মহন্ত (২৫)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা বাবদ উপজেলার বেলাইচ-ী পূর্ব কাজীপাড়ার মৃত ইদ্রিস কাজীর ছেলে আবদুল খালেক কাজী ২০ হাজার টাকা, শহরের ইব্রাহীমনগর মহল্লার রফিকুল ইসলামের ছেলে হাসান আলী রাজু ২০ হাজার টাকা, উত্তর হরিরামপুর গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর ছেলে আবুল কাশেম ৩০ হাজার টাকা, মনমথপুর ইউনিয়নের বৈঞ্চবপাড়া গ্রামের মৃত ধর্মনারায়ণ রায়ের ছেলে উপেন্দ্রনাথ রায় ৫০ হাজার টাকা এবং শহরের আমীরগঞ্জ মহল্লার মৃত নজির হোসেনের ছেলে শাহ মো. সাদীদুল ইসলামের নামে ১ লাখ টাকাসহ মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।
কিন্তু এসব অর্থ ও বরাদ্দের চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছানোর আগেই পার্বতীপুরের একটি শক্তিশালী জালিয়াত চক্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বরাদ্দের চিঠি হস্তগত করে ও চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তারা অনুদানের পাঁচটি চেক উত্তোলন করে। পরে চক্রটি বরাদ্দপ্রাপ্তদের নাম-ঠিকানা বহাল রেখে নিজেদের ছবি ব্যবহার করে অগ্রণী ব্যাংক পার্বতীপুর শাখা থেকে টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করে।
অনুদান বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তাদের নামে ইস্যু চেক বিতরণ করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। পরে পার্বতীপুর থানার পুলিশ খোঁজ করে জালিয়াত চক্রের ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা ও টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
অগ্রণী ব্যাংক পার্বতীপুর শাখার ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, যথাযথ কাগজপত্র দেখে হিসাব খোলা ও চেকের বিপরীতে অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অনুদানপ্রার্থী শাহ মো. সাদীদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে থানায় মামলা করেছেন। আটক এস্রারাফুলকে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
