বরগুনায় স্ত্রীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী মো. শানুর বিরুদ্ধে। এসিড নিক্ষেপ মামলায় জামিনে বের হয়ে মধ্যরাতে ঘরের সিঁধ কেটে এ ঘটনা ঘটায়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রাশিদা বেগম নামের ওই নারীকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
রাশিদাকে উদ্ধারকারী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিদার জামাই আমাকে ফোন করে জানায় রাশিদাকে কোপানো হয়েছে। আমি বিষয়টি শুনে পুলিশকে জানিয়ে সেখানে গিয়ে রাশিদাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
তিনি বলেন, দিন পনেরো আগে স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে উভয়ের সম্মতিতে তাদের তালাক হয়। এরপর পরই শানু এই ধরনের ঘটনা ঘটালো।
তিনি আরও বলেন, বছর খানেক আগে রাশিদাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার আগের ঘরের স্বামীকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানসহ বিয়ে করেন শানু। শানু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হতে থাকে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে নিত্যকলহ লেগে থাকতো। সেই সাথে প্রতিনিয়ত মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে রাশিদা শানুর সংসার করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়ার চেষ্টা করেন শানু। এ ঘটনায় রাশিদা বরগুনা সদর থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলা ও তালাকের ইস্যু নিয়েই হয়তো ক্ষোভের বশে তাকে কোপাতে পারে শানু।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক নিহার রঞ্জন বৈদ্য জানান, ওই নারীর বুকে, হাতে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের না হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেন তিনি।
