চট্টগ্রামে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে ওয়াটার বাস সেবা আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে। এই সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান এস এস ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল ভবন ও উভয় প্রান্তে জেটি নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেটিতে প্রয়োজনীয় পন্টুনও স্থাপন করা হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষা।
জানতে চাইলে এস এস ট্রেডিংয়ের মহাব্যবস্থাপক রিয়াদুল আলম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে যাত্রীদের জন্য ওয়াটার বাস চালু করতে সার্বিক প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। সদরঘাট ও বিমানবন্দর প্রান্তে দুটি জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। সদরঘাট প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে সুদৃশ্য টার্মিনাল ভবন। ওয়াটার বাসগুলোও এখন পুরোপুরি তৈরি। একটি বাস এরই মধ্যে চট্টগ্রামে এসেছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বাকিগুলো চট্টগ্রামে আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ৭ নভেম্বর কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস সেবা চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই দিন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এজন্য প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে সময় পেলে আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এই সেবা উদ্বোধনের জন্য নির্ধারণ করা হতে পারে।
ঢাকায় হাতিরঝিল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চালু করা হয়েছে ওয়াটার বাস সেবা। এতে সড়কপথের যানজট এড়িয়ে সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা। চট্টগ্রামেও শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাতায়াতকারীদের বন্দরকেন্দ্রিক যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে কর্ণফুলী নদীতে ওয়াটার বাস সেবা চালুর উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। এর আগে কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বন্ধ হওয়ায় এই সেবা চালু কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় এই সেবার জন্য সদরঘাট জেটি এলাকায় খননকাজ করার পর অনিশ্চয়তা কেটে যায়।
সদরঘাট প্রান্তে ওয়াটার বাস সেবার জেটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কর্ণফুলীর পাড়ে ২১৩ ফুট দীর্ঘ জেটির সঙ্গে স্থাপিত হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুটের পন্টুন। ওয়াটার বাসের নির্বিঘেœ চলাচল নিশ্চিত করতে পন্টুনের সামনে নদীতে বন্দর কর্র্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চলছে খননকাজ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সিনিয়র হাইড্রোগ্রাফার মো. নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরই মধ্যে জেটি এলাকায় প্রয়োজনীয় খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও সেখানে যাতে নতুন করে পলি না জমতে পারে সেজন্য একটি ড্রেজার কাজ করছে।
জেটির কাছেই স্থাপন করা হয়েছে দ্বিতলবিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুদৃশ্য টার্মিনাল ভবন। সেখানে রয়েছে যাত্রীদের জন্য টিকেট কাউন্টার, বিশ্রামাগার ও রেস্টুরেন্ট। টার্মিনাল ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল পার্কিং স্পেস।
পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাটের কাছে বিমানবন্দর প্রান্তে স্থাপিত হয়েছে আরেকটি জেটি। বিভিন্ন বিমান সংস্থার কাউন্টার থাকবে ওই প্রান্তে। ওয়াটার বাস থেকে নামার পর যাত্রীদের মালামাল সরাসরি নিয়ে যাবে নিজ নিজ বিমান সংস্থার লোকজন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় এনে বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ওয়াটার বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এস এস ট্রেডিংকে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে তারা ওয়াটার বাস তৈরিসহ সার্ভিসটি চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভাড়াসহ অন্যান্য বিষয়ও এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। যেকোনো সময় এটি উদ্বোধন করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের অন্যান্য স্থান থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর যাতায়াতে লোকজনকে সীমাহীন ভোগান্তিপোহাতে হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও কিছু বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোর মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানের কারণে ওই রুটে নিত্য যানজট লেগে থাকে। যানজটে পড়লে শহরের যেসব এলাকা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছতে দেড়-দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়, সেসব এলাকা থেকে একই স্থানে যেতে ওয়াটার বাসে লাগবে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট।
