জাবির ১০ আন্দোলনকারীর বাড়িতে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:০৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ১০ জন আন্দোলনকারীর বাড়িতে পুলিশ গেছে বলে অভিযোগ জানান তারা।

ওই ১০ আন্দোলনকারী হলেন ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক, দপ্তর সম্পাদক হাসান জামিল, কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, মুখপাত্র আরমানুল ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক-উস-সালেহীন এবং জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান শিশির।

মুশফিক-উস-সালেহিন বলেন, ‘পুলিশ আমার নানার বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য নেয়। এরপর থেকে আমার পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত। তারা আমাকে নিয়ে এখন চিন্তিত। উপাচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা নিন্দনীয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরমে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে আমি নানার বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিলাম। পুলিশ সেই ঠিকানাতেই গিয়েছিল। আমার ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলন দমাতেই এমন কাজ করছে।’

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে চলমান আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেকের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে আছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধন থাকতে পারে। আন্দোলনকে দমানোর একটি অপকৌশল হিসেবেই এসব করা হচ্ছে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে অবগত নয় জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বলেন, ‘এসব বিষয়ে ইন্টেলিজেন্সরা (গোয়েন্দা সংস্থা) কাজ করছে। আমরা এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না।’

এদিকে রোববার ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত