শুল্কমুক্ত গাড়ি বিক্রির সুবিধা চান সাংসদ হারুন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৮ এএম

সাংসদদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনা গাড়ি বিক্রি ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার সুবিধা চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংসদ হারুন-অর রশিদ।

সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই সুবিধা চান। এর আগে গত ২১ অক্টোবর শুল্ক সুবিধায় কেনা গাড়ি বিক্রির অপরাধে এই সাংসদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সাত দিন জেল খাটার পর ২৮ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি মুক্ত হন।

হারুন বলেন, মাননীয় সংসদ নেতা রয়েছেন, তারা তো রিকশায় করে গণভবনে যাবেন না। সচিবালয়ে তো রিকশা যাবে না। আমি অনুরোধ করব, ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এমপিদের গাড়ি কেনার সুযোগটা দেন, তাহলে পাঁচ বছর একটা গাড়ি ব্যবহারের পর গাড়িটা বিক্রি করলে অন্তত মূলধনটা সে ফেরত পাবেন। ইউরোপ, আমেরিকা উন্নত বিশ্বে এক থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে নগদে গাড়ি কেনা যায় না। তারা ব্যাংকের সুবিধা পায়। ডাউন পেমেন্ট দিয়ে গাড়ি ক্রয় করে।

সংবাদপত্রে ঢালাওভাবে নিজের সাজার বিষয়টি প্রচার করেছে উল্লেখ করে হারুন বলেন, আমাদের কাছে গাড়ি আমদানির পরিপত্র আছে। আমি যদি গাড়ি সত্যিকার অর্থে হস্তান্তর করে থাকি তখন আমাকে সমুদয় শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এখানে জরিমানা বা জেলের কোনো সুযোগ নেই। আমি আশা করি, উচ্চ আদালত আমাকে এই বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আসবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা টাকা দিয়ে গাড়িটি আমদানি করি। ’৯৬ সালে আমি যখন প্রথম এমপি হই, তার আগে আমি গাড়ি ব্যবহারকারী ছিলাম না। আমার কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও ছিল না। এমপিদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সংসদ এমপিদের এই সুযোগটি দিয়েছিল। এটি নিয়ে পত্রপত্রিকায় ঢালাওভাবে লেখালেখি হয়।

হারুন বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনার কাছে আমি অনুরোধ করব এমপিদের যে সুযোগটি দেওয়া হয়েছে, এমপিরা যেন গাড়ি কিনতে পারে, গাড়িটি ব্যবহার করতে পারে– এ বিষয়ে একটু চিন্তাভাবনা করবেন।

এ সময় হারুন জানান, এমপিদের ১৯৮৮ সাল থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চম সংসদে ৩০১, সপ্তম সংসদে ১৭৬, অষ্টম সংসদে ৩৩১ ও নবম সংসদে ৩১৫টি শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত