ইট দিয়ে ছাত্রীর পাঁচটি দাঁত ভেঙে দিল বখাটে

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩২ পিএম

খাদিজা আক্তার (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর ওপর হামলা চালিয়ে তার পাঁচটি দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আজমির উল্লাহ (১৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে গত বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খাদিজাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সদর উপজেলার চর কোয়ারপুর গ্রামের আবুল কালাম ঢালীর মেয়ে খাদিজা ওই কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। আর অভিযুক্ত ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে শরীয়তপুর পৌরসভার তুলাসার গ্রামের শাহ আলম খানের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে পালং মডেল থানার ওসি আসলাম উদ্দিন বলেন, খাদিজাকে দুই মাস ধরে উত্ত্যক্ত করছিল আজমির। সে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও একপর্যায়ে সহপাঠীদের মাধ্যমে আজমিরকে সতর্ক করে খাদিজা। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বুধবার কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় আজমির তার পথরোধ করে। এর প্রতিবাদ করে খাদিজা। তখন দুজনের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইট দিয়ে খাদিজার মুখে আঘাত করে আজমির। এতে তার নিচের মাড়ির দুটি ও ওপরের মাড়ির তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে সহপাঠীরা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পাঁচটি দাঁত ভেঙে গেছে; আরও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মুখে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এখানে ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদিজার এক সহপাঠী বলে, ‘ছেলেটি জুনিয়র। তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে বেপরোয়া ছিল। কারও কথা শোনেনি।’ খাদিজার বাবা বলেন, ‘কলেজে একটি ছেলে উত্ত্যক্ত করত, খাদিজা বাড়িতে দুই-একবার আলোচনা করেছে। কিন্তু গুরুত্ব দিইনি। এর মূল্য এমনভাবে দিতে হবে বুঝতে পারিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত