স্যানিটেশন শ্রমিকদের নির্মম কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন প্রতিবেদন

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:০০ পিএম

বিশ্ব টয়লেট দিবসকে সামনে রেখে ওয়াটারএইড, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিশ্ব ব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন শ্রমিকদের মর্যাদা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানায় ওটায়াটারএইড।

স্যানিটেশন শ্রমিকদের নির্মম কর্মপরিবেশের কথা উল্লেখ করে তা পরিবর্তনের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, উন্নয়নশীল বিশ্বে এখনো স্যানিটেশন শ্রমিকদের অবস্থার ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়ার মতো। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্যানিটেশনের বিশাল লম্বা চেইনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরুষ ও নারী শ্রমিকরা কাজ করে। মানুষের টয়লেটে যাওয়া থেকে শুরু করে বর্জ্য নিষ্পত্তি বা পুনর্ব্যবহার পর্যন্ত কাজে নিয়োজিত থাকে এই শ্রমিকরা। টয়লেট পরিষ্কার, গভীর কূপ ও সেপটিক ট্যাংক খালি করা, সুয়ারেজ লাইন ও ম্যানহোল পরিষ্কার এবং পাম্পিং স্টেশন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিচালনা স্যানিটেশন শ্রমিকদের কাজের মধ্যে পড়ে।  

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্যানিটেশন শ্রমিকদের বিপজ্জনক কর্ম পরিবেশের মাঝে কাজ করতে হয় জানিয়ে তারা আরো উল্লেখ করে, যা তাদের স্বাস্থ্য এমনকি জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট লাখ সুইপার রয়েছে, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং প্রায়ই কোনো সরঞ্জামাদি ও কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিয়ে কাজ করে।

‘এসব শ্রমিক কোনো সরঞ্জামাদি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিয়ে মনুষ্য বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজে নেমে পড়ে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য চরমভাবে বিপজ্জনক’। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘সুয়ারেজ লাইন ও সেপটিক ট্যাংকে টক্সিক গ্যাস যেমন- অ্যামোনিয়া, কার্বন মনোঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড থাকায় শ্রমিকরা অজ্ঞান হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। যদিও বিশ্বব্যাপী কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে শুধুমাত্র ভারতে প্রতি পাঁচ দিনে তিনজন স্যানিটেশন শ্রমিক মারা যায়, অসংখ্য শ্রমিক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ও মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার কারণে আয়ুকাল কমে যায়’।

‘অধিকার বা কোনো প্রকার সামাজিক সুরক্ষা ছাড়াই শ্রমিকরা এসব কাজ করে থাকে। অসংগত কিংবা বিনা বেতনে কাজ করতে হয় তাদের- কখনো কিছু শ্রমিকদের কাজের বিনিময় অর্থ না দিয়ে খাবার দেওয়া হয়। অনেক দেশে স্যানিটেশন শ্রমিকদের কাজকে সামাজিকভাবে হেয় বা কলঙ্কজনক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়, আর তাই শ্রমিকরা প্রায়ই রাতে কাজ করে যেন অন্যান্যদের থেকে লুকিয়ে থাকা যায়’। 

এ প্রসঙ্গে ওয়াটারএইড এর সিইও টিম ওয়েইনরাইট বলেন, স্যানিটেশন শ্রমিকদের বিপজ্জনক কর্ম পরিবেশে কাজ করতে হয়, যা তাদের স্বাস্থ্য এমনকি জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বিপজ্জনক কর্ম পরিবেশের কারণে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ, যা আমরা মোটেই এভাবে চলতে দিতে পারি না।         

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিরেক্টর মারিয়ে নেইরা বলেন, “স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মৌলিক যে নীতি তা হচ্ছে ‘প্রথমে কোনো ধরনের ক্ষতি করা যাবে না’। সারা বিশ্বেই স্যানিটেশন শ্রমিকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি মানা যায় না।”      

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সেকটরাল পলিসিজ ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর অ্যালেটে ভ্যান লিউর বলেন, স্যানিটেশন শ্রমিকদের ঘিরে নীতি, আইন ও নিয়মের অভাব আছে। যেসব জায়গায় তারা বসবাস করে তা অপর্যাপ্ত। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও আনুষঙ্গিক প্রয়োগকারী প্রক্রিয়ার অভাবও লক্ষণীয়।    

বিশ্ব ব্যাংকের গ্লোবাল প্র্যাকটিস বিভাগের ডিরেক্টর জেনিফার সারা বলেন, এখনই সময় স্যানিটেশন শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে সবাইকে এগিয়ে এসে কাজ করার। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত