বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূরণে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে বুয়েট প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে এর মধ্যে দাবি পূরণ হলে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন তারা।
সোমবার দুপুর দুইটার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী শীর্ষ সংশপ্তক এসব তথ্য জানান।
আন্দোলনকারীদের দাবি তিনটি হলো ‘চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার; আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলের র্যাগিংয়ের ঘটনায় অপরাধীদের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেয়া; সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র্যাগের জন্য সুস্পষ্টভাবে ক্যাটাগরি ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন করে অর্ডিনেন্সে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
বেলা ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। পরে উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম দাবিগুলো বিবেচনা করতে তিন সপ্তাহ সময় চান। তবে উপস্থিত ডিনরা দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান।
আলোচনা শেষে ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের পূরণের জন্য আমরা কিছুদিন সময় চেয়েছি। আশা করছি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের সকল দাবি পূরণ করতে পারব।
শীর্ষ সংশপ্তক জানান, তিন দাবি বাস্তবায়ন করতে প্রশাসন দুই সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। আমরা মেনে নিয়েছি। যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে আমরা আসন্ন টার্ম পরীক্ষায় বসব। আর দাবি না মানলে ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
