বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বিস্ফোরণ ছিটকে পড়েন দেয়ালের নিচে

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৩৯ এএম

নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. আরিফ রিকশায় চড়ে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে বাস ধরতে শুভপুর বাসস্ট্যান্ড যাচ্ছিলেন বাড়ি ফিরবেন বলে। পাথরঘাটার ব্রিক ফিল্ড রোডে পৌঁছাতেই বিকট বিস্ফোরণে রিকশাসহ ছিটকে গিয়ে পড়েন এক দেয়ালের নিচে। দুই পায়ে ভেঙে এখন ঠাঁই হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে।

ওই রিকশায় আরিফের সঙ্গে ছিলেন তার ফুপাতো ভাই ফিশারিঘাটের ট্রলার শ্রমিক ইউনুস ও ইউনুসের সহকর্মী ইসমাইল। তিনজনই আহত হয়েছেন। আর তাদের রিকশার চালক মাহমুদুল হক মারা গেছেন ওই ঘটনায়।

চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরিফের দুই পা ভেঙেছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেয়ালের নিচ থেকে কে বের করেছে জানি না। এরপর একটা পিকআপে তোলা হয় আমাদের। সেখানে রিকশাচালককেও দেখেছিলাম। তখন তার জ্ঞান ছিল না। পিকআপে কয়েকজনের নিচে চাপা পড়েছিলাম।

নোয়াখালী জেলার মাইজদি থেকে ফুপাতো ভাই ইউনুসের সাথে চট্টগ্রাম এসেছিলেন আরিফ। রোববার তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

আরিফের বাবা মো. সিরাজ বলেন, আমাদের কাউকে না জানিয়ে ছেলে ইউনুসের সঙ্গে ট্রলার দেখতে চলে আসে। শনিবার রাতে ইউনুস ফোন করে জানায়, আরিফ আবদার করায় তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। রোববার তার বাড়ি চলে যাওয়ার কথা ছিল। মেডিকেলের এক ডাক্তার ফোন করে জানায় আরিফ হাসপাতালে। 

পাথরঘাটা বিস্ফোরণে আহত আরিফের ফুপাতো ভাই নোয়াখালী সদরের মো. ইউনুছ ক্যাজুয়ালটিতে চিকিৎসাধীন । তিনি জানান, হঠাৎ ওই বিল্ডিংটা অতিক্রম করতেই বিকট শব্দে দেয়াল রিকশার ওপর পড়ে। এরপর আর কিছু মনে নেই। ট্রলার শ্রমিক ইউনুছ আরও জানান তার সহকর্মী ইসমাইলের কোন স্বজন এখনো আসেনি।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সেন্ট জনস স্কুলের শিক্ষিকা টিসা গোমেজ (২২) বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার ভাই রিগ্যান গোমেজ বলেন, স্কুলে যাচ্ছিল সকালে। এরপর আমরা তাকে মেডিকেলে খুঁজে পাই। ডাক্তাররা বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তার এখনো জ্ঞান ফেরেনি।

পাথরঘাটার বড়ুয়া বিল্ডিং এর নিচতলার বাসিন্দা অর্পিতা নাথ ওই ঘটনায় দগ্ধ হন।

চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিস্ফোরণে দগ্ধ অর্পিতা নাথকে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ৮ জনকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে টিসা গোমেজ, নজির ও আবদুল হামিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের পাথরঘাটার ব্রিক ফিল্ড সড়ক এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত