মামলা নিষ্পত্তি ও অনুমতি ছাড়াই চালু সেই ৩১ ইটভাটা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:০৮ পিএম

ইটভাটা নিয়ে বহুল আলোচিত ‘রিট কেলেঙ্কারি’র ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলার ৩১ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা এখনো চলছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তর; কোথাও থেকে মেলেনি এসব ইটভাটা চালানোর অনুমতি। আদালত থেকেও মেলেনি মামলার স্থগিতাদেশ। তা সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে অভিযুক্ত ওইসব ইটভাটায় মহাধুমধামে চলছে ইট তৈরি ও পোড়ানোর আয়োজন।

পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মেসার্স এসপি ব্রিকসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ভাটায় ইট তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। অল্পদিনের মধ্যে ইট পোড়ানো শুরু হবে।’

জানা যায়, দুটি জাল রিট আদেশের (মামলা নং ১৫০৯৩, ২০১৭ ও মামলা নং ১৪৬০৫, ২০১৮) ভর করে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার অভিযুক্ত ৩১ ইটভাটা দেশের প্রচলিত আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত লঙ্ঘন করে অবাধে ইটভাটা ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল, বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষেতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলমের নির্দেশে গত ২৭ মার্চ রাতে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানুল হক দমকল বাহিনীর সহায়তায় মোমিনপুর ইউনিয়নের হয়বৎপুরে যমুনা ব্রিকস ইটভাটায় পানি ঢেলে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় ব্রিকস মালিক হাসান শাহরিয়ার ইটভাটা কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সংক্রান্ত রিট পিটিশন আদেশ (নং ১৪৬০৫) থাকা সত্ত্বেও ভাটা বন্ধ করায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিগ্যাল নোটিস পাঠান। জেলা প্রশাসক দুটি রিট মামলার আদেশের কপি হাইকোর্ট ডিভিশনের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সরকারের কাছে পাঠান। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হাইকোর্ট বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করে। সেই বেঞ্চের দাখিল করা প্রতিবেদনে রিট আদেশ দুটির কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করে। উভয় আদেশই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে বলা হয়। উত্থাপিত নথিপত্র পর্যবেক্ষণ-পর্যালোচনা শেষে ইটভাটা পরিচালনায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০ জুন পার্বতীপুর মডেল থানার এসআই আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৩১ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্তভার এসআই এমআর সাঈদকে; পরে দিনাজপুর জেলা সিআইডির পরিদর্শক মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয়।

গত ২৮ জুলাই মামলার ধার্য তারিখে অভিযুক্ত ৩১ ভাটামালিকের ২৭ জন জেলা দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক আজিজ আহমেদ ভূঞা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলে পাঠান। পরে তাদের অনেকে জামিনে ছাড়া পান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিবন্ধন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কীভাবে ইটভাটা চালু হলোÑ জানতে চাইলে অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়ী ইটভাটামালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার দায়িত্ব মামলার তদন্ত করা। ভাটামালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা নয়। ওটা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের।’ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। অবশ্যই ওইসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত