কিশোরগঞ্জ শহর ও এর আশপাশের এলাকাজুড়ে শতাধিক অবৈধ সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং টেম্পোস্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসব স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আর এই টাকার ভাগবাটোয়ারা হয় ক্ষমতাসীন দল ও কিছু প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের মধ্যে।
এসব স্ট্যান্ডের কারণে যানজট আর জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। এ নিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ বা মুখ খুলছে না।
এদিকে অবৈধ এসব স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটছে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক পথচারী গুরুতর আহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে কিছু অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করলেও ছয় মাস যেতে না যেতে গত জুন থেকে আবারও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় স্ট্যান্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে। তবে নাগরিক সমাজের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের অবৈধ সহযোগিতা না থাকলে এসব স্ট্যান্ড গড়ে তোলা সম্ভব হতো না।
কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী অশোক সরকার বলেন, শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবৈধ অটো, সিএনজি স্ট্যান্ড ও যানজট নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার পৌর মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।
গত শনিবার শহরের মধ্যস্থলে নরসুন্দা নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন আখড়াবাজার সেতুতে নতুন আরেকটি অবৈধ অটো স্ট্যান্ড বসিয়ে অটোপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চালকরা জানান, হাবিব নামে দুই পা-বিহীন একজনকে এই টাকা দিতে হয়। হাবিবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তার ভাই মামুন এটি বসিয়েছেন। মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের একজন বড় ভাই তার পাশে আছেন। তবে তার নাম বলা যাবে না।’
