আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকায় তিন দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে বুধবার রাতে ১৪৪ ধারা জারি করে শহরে মাইকিং হয় বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলাম আহাদ।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বুধবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে বলেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার বড় ভাই আমিনুর রহমান খান বাপ্পীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধী পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়। ফলে পুরো টাঙ্গাইল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে তাদের বিরোধী পক্ষ। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটতে পারে। বিষয়টি চিন্তা করে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান, শহীদ মিনার, নিরালার মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম তিন দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।
জান যায়, ২০০৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিজ বাড়ির কাছেই খুন হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক বাপ্পী। তিনি সাবেক এমপি রানার বড় ভাই এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান এমপি আতাউর রহমান খানের ছেলে। বাপ্পী হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবার ‘শহীদ আমিনুর রহমান খান বাপ্পী স্মৃতি সংসদের’ ব্যানারে খান পরিবার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল বৃহস্পতিবার কবর জিয়ারত, বাপ্পী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শোক র্যালি এবং শুক্রবার বিকেলে শহীদ মিনারে আলোচনা সভা।
তবে আওয়ামী লীগের খান পরিবার বিরোধী নেতাদের দাবি বাপ্পীর মৃত্যুবার্ষিকীর এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খান পরিবার তাদের অনুসারী সন্ত্রাসীদের আবার একত্রিত করছে। তারা টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আবার অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। তাদের এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নীল নকশা রুখতেই পাল্টা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল বৃহস্পতিবার সকালে ‘নির্যাতিত আওয়ামী পরিবারের’ ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার বিচার দাবিতে শহরের বিক্ষোভ মিছিল ও শহীদ মিনারে সমাবেশ।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন আমানুর রহমান রানা।
এ ছাড়া তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল, শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনারে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশ এবং শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
জানা গেছে, দু’পক্ষই কর্মসূচি সফল করতে শহর ও আশপাশের এলাকায় নানা তৎপরতা চালায়। সাবেক এমপি আমানুর রহমান থান রানা টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ায় তার নিজ বাসভবনে অবস্থান করে কর্মসূচি সফল করতে কাজ করছেন।
অপরদিকে, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির, তার ভাই শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল তৎপর তাদের মিছিল-সমাবেশ সফল করতে।
ফলে শহরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছে পুলিশ প্রশাসন।
এ ব্যাপারে সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার জামিনে মুক্ত প্রধান আসামি আমানুর রহমান খান রানা বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে আমি এবং আমার লোক কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শহরে উত্তেজন সৃষ্টি করব এ কথা সঠিক নয়। আমার জনপ্রিয়তা দেখে টাঙ্গাইলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও গামছা মার্কা আওয়ামী লীগের হাইব্রিড নেতারা নানাভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল -২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের এমপি ছোট মনিরের মোবাইলে কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
