ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এই অনিয়ম-দুর্নীতিকে ‘পুকুর চুরি’ বলে আখ্যায়িত করেছে সংসদীয় কমিটি। পরে বিষয়টি ‘অধিকতর’ তদন্তের জন্য কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিককে আহ্বায়ক করে সংসদীয় সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাব-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আ. ফ. ম রুহুল হক, মো. আব্দুল আজিজ ও জাকিয়া নূর।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে তিন পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া হয়। এতে দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ছবি ই-মেইলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুটি বিলের মাধ্যমে ১০ রকমের পণ্যের বিপরীতে ১০ কোটি টাকার যে বিল দাবি করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। থ্রি-হেড কার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের ইউনিটের মূল্য এক লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, যা বাস্তবসম্মত নয়। বাজারদর যাচাই না করেই চড়ামূল্য দাখিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই কোটি টাকার ওপরে কেনাকাটার জন্য সচিবের অনুমতি নেওয়ার শর্ত রয়েছে। অথচ ১০ কোটি টাকার কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সচিবের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়ন খাতের ৩০ কোটি টাকার বিপরীতে ২০ কোটি ৬৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকার কার্যাদেশে যন্ত্রপাতির মধ্যে সবচেয়ে দামি ‘আইটেম’ হিসেবে ‘ইরিডিয়াম-১৯২ গ্রেড থেরাপি’ যন্ত্রের নাম উল্লেখ করা হয়। যন্ত্রটি ক্যানসার থেরাপি কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে, পিপি, কার্যাদেশ ও চুক্তিতে ওই নামের কোনো যন্ত্র পাওয়া যায়নি। দরপত্রের সঙ্গে যে ক্যাটালগ ও বাক্স সরবরাহ করা হয়েছে, তার মধ্যে যে যন্ত্রটি সংরক্ষিত আছে, তার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ব্রোকি থেরাপি। এর পরিবর্তে যে যন্ত্রটি সরবরাহ করা হয়েছে, সেটি কোনো যন্ত্র নয়। অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের আগেই অতিরিক্ত মূল্যের আইসিইউ যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।
