দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, সালিশে মীমাংসার চেষ্টা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর সুধারামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী (৮) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে গত বুধবার রাতে তার বাবা সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

কিন্তু জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে থানার এসআই বিপুল ঘোষ স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ছায়দুল হককে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করতে বলেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার শিশুটির মা জানান, প্রতিবেশী আবদুল জলিল হুক্কুর ছেলে মিরন (২৭) কয়েক দিন আগে তার মেয়েকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর সে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি সাহেদ ও মিজান নামে দুই প্রতিবেশী টের পেয়ে তারাও মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। গত বুধবার দুপুরে সাহেদ ফের ধর্ষণ করে। সন্ধ্যায় মেয়েটির পেট ব্যথা শুরু হলে একপর্যায়ে মাকে বিস্তারিত জানায়।

এরপর রাতে শিশুটির বাবা সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। থানার এসআই বিপুল কুমার ঘোষ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবেক মেম্বার ছায়দুল হককে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার মীমাংসা করতে বলেন। এরপর শুক্রবার বাদ জুমা তিনি সালিশ বৈঠক ডেকেছেন।

ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা কেন করছেন জানতে চাইলে ছায়দুল হক উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘এসআই বিপুল কুমারের নির্দেশে মীমাংসা করছি। কেউ নাক না গলালেও চলবে।’

তবে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তদন্তকারী এসআই বিপুল কুমার ঘোষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কাদির হানিফ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এলাকাবাসী ক্ষেপে আছে। আমি জানার পর শিশুটির পরিবারকে মামলা করতে বলেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত