সোনাগাজীতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে জ্যাঠাতো ভাই পরিচয় দিয়ে চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী গ্রামের পরেশ চন্দ্র মজুমদার ও তার আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একই এলাকার আবুল কাশেম ওরফে চীনা কাশেম নামের এক প্রতারক।
এই বিষয়ে প্রতারণার শিকার পরেশ চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে চীনা কাশেম ও তার সহযোগীদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অপর আসামিরা হলেন চীনা কাশেমের স্ত্রী ছেমনা খাতুন, তার ছেলে আরাফাত ও বগাদানা গ্রামের শাহজাহান।
বাদীর আইনজীবী কামরুজ্জামান স্বপন জানায়, আদালত মামলা আমলে নিয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
বাদী তার মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের কাজিরহাট বাজারে ঘড়ির মেকানিকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। দোকানে আসা যাওয়ার সুবাদে তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার আবুল কাশেম ওরফে চীনা কাশেম।
আসামি আবুল কাশেম নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার জ্যাঠাতো ভাই বলে পরিচয় দেন। বাদীর মেয়ে চরসাহাভিকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়ার কাজ করেন। তদবির করে তার মেয়েকে সরকারী প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরির চাকুরী নিয়ে দেবে বলে জানায়। বাদী তার কথা বিশ্বাস করে তার আত্মীয় স্বজনদের চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। তখন সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চীনা কাশেম বাদীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
টাকা দেওয়ার কিছুদিন পর গত বছরের ২ জানুয়ারি তারিখে চাকুরীর অবস্থা জানতে চাইলে আসামি প্রধানমন্ত্রীর সীলযুক্ত কিছু কাগজ বাদীকে দিয়ে বলেন বাকি টাকা কিছু দিনের মধ্যে দিলে চাকুরী হয়ে যাবে। তখন ব্যবস্থা করতে না পেরে বাদী বাকি টাকা চাকুরী হলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেন।
পরে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর বাদী আসামীর বাড়িতে গিয়ে চাকুরীর ব্যবস্থা করতে না পারলে টাকা ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার কথা বলায় আসামি ও তার সহযোগীরা বাদীকে হত্যার হুমকি দেন এবং মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চীনা কাশেমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি। পরে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় চীনা কাশেমের বসত ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে।
চীনা কাশেমের প্রতিবেশী শেখ ফরিদ রুবেল বলেন, সে আগে কৃষিকাজ করতেন এবং মানুষকে তাবিজ কবজ দিতেন। তার বিরুদ্ধে তাবিজ কবজ ও জিন ভূত তাড়ানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরেশ চন্দ্র মজুমদারের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি এলাকার সবাই জানেন।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, আদালতের আদেশ পেয়েছি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে । তদন্ত করে যথাসময়ে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।
