দেবীগঞ্জ ছেড়ে যেতে চান না খাদ্য গুদামের ওসি

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৮ পিএম

বদলির আদেশ হলেও এখনো নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) ফরিদা ইয়াসমিন। নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দিয়ে স্বপদে বহাল থাকার জন্য চেষ্টা তদবির করছেন, যা সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থি।

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় বদলি হয়ে আসা নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। নিয়ম না থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে ওই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা একই স্থানে তিন বছরের বেশি সময় ধরে তার অবস্থান করা নিয়ে হচ্ছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

কর্র্তৃপক্ষের ৭ নভেম্বরের ছাড়পত্রাদেশ অনুযায়ী হাসনাৎ জামালকে ৯ নভেম্বর দেবীগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) হিসেবে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য জামাল একাধিকবার ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে যান। কিন্তু ফরিদা নানা টালবাহানা করে তাকে ফিরিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে জানান, নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণ হচ্ছে খাদ্য গুদামে কয়েকশ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের ঘাপলা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদা কৌশলে এড়িয়ে যান।

সূত্রমতে, ওসি এলএসডি ফরিদা ইয়াসমিন দেবীগঞ্জে ২০১৬ সালে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চলতি বছর ধান, চাল ও গম সংগ্রহের সময় বস্তাপ্রতি ৩০ টাকা করে আদায় করেন। এতে তার অবৈধ আয় হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) বাবুল হোসেন ওসি এলএসডি ফরিদা ইয়াসমিনের ব্যাপারে ডিজির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবীর বলেন, নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া চাকরিবিধির পরিপন্থি। তবে ওই কর্মকর্তাকে ওখানে রাখতে রাজনৈতিক চাপ আছে। তাছাড়া মানবিক কারণে তাকে রাখা হয়েছে। যদি অনিয়ম থেকে থাকে, সেটি আমি দেখব এবং তদন্ত কমিটি গঠন করব।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত