ঝিনাইগাতী কামালপুর রাজৈর মুক্ত দিবস আজ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২১ পিএম

আজ ৪ ডিসেম্বর। মাদারীপুরের রাজৈর, শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস। ৯ মাসের রক্তক্ষীয় যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধারা এসব এলাকায় ওড়ান লাল-সবুজের পতাকা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পাকিস্তানি হানাদের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল কামালপুর : ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুরে যুদ্ধের শুরুতেই শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলে পাকিস্তানি বাহিনী। ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের উপর্যুপরি আক্রমণে একাত্তরের এদিনে হানাদারদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় ধানুয়া কামালপুর। এর মধ্য দিয়ে সূচিত হয় শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোর বিজয়ের পথ।

রাতের আঁধারে ঝিনাইগাতী শত্রুমুক্ত : ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে যখন ঢাকার বুকে হত্যাযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী, সেই রাতেই ৩টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঠানো স্বাধীনতার ঘোষণার টেলিগ্রাম মেসেজ ঝিনাইগাতী ভিএইচএফ ওয়্যারলেস অফিসে পৌঁছে। এরপর শুরু হয় হানদার মুক্তের মিশন। ৩ ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে শালচূড়া ক্যাম্পের পাকিস্তানি বাহিনী কামালপুর দুর্গের পতনের আগাম সংবাদ পেয়ে পিছুু হটে এবং আহম্মদনগর হেড কোয়ার্টারের সৈনিকদের নিয়ে রাতেই মোল্লাপাড়া ক্যাম্প গুটিয়ে শেরপুরে আশ্রয় নেয়। এভাবে রাতের আঁধারে বিনাযুদ্ধে ঝিনাইগাতী শত্রুমুক্ত হয়।

রাজৈরের রাজাকারদের বিচার করার আহ্বান : ৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পালিয়ে গেলে মুক্ত হয় রাজৈর। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারদের অভিযোগ, ৪৮ বছরেও তাদের অনেকেরই খোঁজখবর নেয়নি কেউ। দেখানো হয়নি শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান। তারা সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ‘রাজৈরের রাজাকারদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত