রুম্পার মৃত্যু: স্যান্ডেল বদলের কারণ কী!

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:২৮ পিএম

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার (২১) মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে স্যান্ডেল বদলের কারণ জানতে চায় পুলিশ। বুধবার রাতে তার লাশ উদ্ধারের চার দিন পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বুঝতে পারছেন না রুম্পা হত্যা না আত্মহত্যার শিকার।

এ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কয়েকটি বিষয়ে আমলে নিচ্ছে পুলিশ। এর একটি হলো রুম্পার স্যান্ডেল বদল।

তদন্তকারী একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতে লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে। তবে শনিবার পর্যন্ত তাদের কেউ রুম্পার ঘটনায় স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

তাদের কেউ বলছেন, টিউশনি শেষে রুম্পা হয়তো রাস্তায় হাঁটাহাঁটির জন্য তার নতুন জুতা রেখে পুরোনো স্যান্ডেল নিয়েছিলেন।

কেউ বলছেন, হয় সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য বা দ্রুত হাঁটার প্রয়োজনে তিনি হিল পাল্টে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরেন।   

এ ছাড়া বুধবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে নেমে আংটি ও কানের দুলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র বাসায় পাঠিয়ে দেন রুম্পা। এর কারণ নিয়েও ভাবছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

তাদের ধারণা, হাঁটাহাঁটির সময় কেউ তাকে কৌশলে যেখানে লাশ পাওয়া গেছে তার আশপাশের ভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তদন্তকারী এক কর্মকর্তা জানান, যেখান থেকে রুম্পার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তার আশপাশে থাকা সব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। লাশ পাওয়ার স্থান থেকে আশপাশের একাধিক ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন জায়গা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যে ভবনের ছাদে পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে তারও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহের তালিকায় থাকা রুম্পার একাধিক সহপাঠী ও বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমাদের যা যা করণীয় তার সবই করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, লাশ উদ্ধারের আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে এক তরুণীকে ওই গলিতে ঢুকতে দেখা গেছে, তবে তিনি রুম্পা কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।

পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবি এ ঘটনার তদন্ত করছে।

ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শামসুল আরেফিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন এটি এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছি। আশা করছি শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

রুম্পা হত্যা মামলার তদন্তে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রুম্পার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। কারা তাকে বাসার নিচ থেকে কেন ডেকে নিয়ে গেছে সেটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম এর আগে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর রুম্পা বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। তিনি নিজের মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নেননি। তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। সেটার তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘রুম্পার মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জানা যাবে, কে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়েছে। কারণ বাসা থেকে রুম্পাকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রেমঘটিত বিষয়কেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

জানা গেছে, ঘটনার দিন রুম্পা দুটি টিউশনি শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন তিনি। বাসা থেকে নিচে নেমে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও জুতা বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরোনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে চলে যান। এরপর তার লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধেশ্বরীর যে বাড়ির সামনে রুম্পার লাশ পাওয়া যায়, তার পাশে আরও দুটি ভবন রয়েছে। এর যেকোনো একটি ভবন থেকে রুম্পাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি।

রুম্পা মালিবাগের শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জে পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে রুম্পার মরদেহ গ্রহণ করেন তার ভাই আশরাফুল ইসলাম।

রুম্পার একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে এর আগে সহপাঠীরা জানান।

রুম্পার মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে জড়িতদের শাস্তি চেয়ে শনিবারও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ও ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত