কক্ষের দরজা বন্ধ করে বিচারপ্রার্থীদের মারধর

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪১ পিএম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে সালিশ চলাকালে বিচারপ্রার্থী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরালসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান কবির এপ্লবের বিরুদ্ধে। গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদে আদালতের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তারপর উভয়পক্ষের বিচারপ্রার্থীরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা বা মিডিয়ায় কিছু না বলার জন্য হুমকির মধ্যে রয়েছে রফিকুলের পরিবার। নিরাপত্তাও চেয়েছেন তারা।

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধান, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আওয়ালগাড়ী মীরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম, তার ভাই আনোয়ার ও আনিসুরের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই দুদু মিয়া ও ফিরোজ হোসেনের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলছিল। তাদের বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করা হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উভয়পক্ষকে ৪ ডিসেম্বর ডাকা হয়।

চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আহসান কবির এপ্লবের উপস্থিতিতে সালিস চলাকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের হাতাহাতির সময় এক বিচারপ্রার্থী হাতে আঘাত পান। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত না করে সালিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে চেয়ারম্যান রফিকুলসহ তার পরিবারের পাঁচজনকে মেরে আহত করেন। আহত অবস্থায় রফিকুল, আনোয়ার ও আনিসুর আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে আসেন এবং ফিরোজ ও তার পরিবারের লোকজন জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু তিনি তা না করে সালিসের ঘরের দরজা বন্ধ করে চেয়ারম্যানসহ মেম্বাররা লাঠি দিয়ে আমাকে ও আমার ভাইদের বেধড়ক মারধর করে এবং আমরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেও আমাদের তার লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।

রফিকুলের স্ত্রী রুমা পারভীন, মেয়ে রুকসানা পারভীন, আনোয়ারের স্ত্রী ডেইজী আক্তারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে যে থানা বা মিডিয়ায় কোনো কিছু জানালে পুরো পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলবে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ রকম অন্যায়কারী চেয়ারম্যানের বিচার করে তার অপসারণ চাই।

আহত ফিরোজ হোসেন ও দুদু মিয়া বলেন, জমি-জমার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে সালিস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আমরা জমির বিরোধ মিটিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

এলাকাবাসী মনতাজ, আবু কালাম, বেনজীর আহমেদসহ অনেকে বলেন, চেয়ারম্যান যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে এর সুষ্ঠু বিচার হতে হবে।

বিচারপ্রার্থীদের মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক বলেন, চেয়ারম্যান দরবারে থাকলে আমাদের বলার কিছু থাকে না। সেই দিন বিশৃঙ্খলা ঘটায় এমনটা হয়েছে।

অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও রুকিন্দীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান কবির বলেন, বিচারের দিন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শান্ত করার জন্য উভয়পক্ষকেই ‘দু-চারটা বাড়ি’ মারা হয়েছে। ঘরের দরজা বন্ধ করে মারার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ কথা যে বলেছে তারা মসজিদের টাকাও মেরে খাইছে, আমি মিথ্যা কথা বলি না।

আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। কেউ অভিযোগ দেয়নি তাই ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালতের বিচারে মারধরের কোনো বিধান নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত