শেকৃবিতে ভর্তিচ্ছুকে দলে ভেড়াতে ঢাকা-কুমিল্লা গ্রুপের মারামারি, আহত ১৩

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:০৬ পিএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীকে নিজেদের দলে ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই আঞ্চলিক গ্রুপের সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্য একটি ঘটনায়, ভিন্ন দুই আঞ্চলিক গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাকা ও কুমিল্লা শীর্ষক দুই আঞ্চলিক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১ টায় ভর্তি হতে আসা এক নবীন শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুমিল্লা এবং ঢাকা গ্রুপের মধ্যে টানাটানি শুরু হয়। একসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে তারা।

পরবর্তীতে দুপুর ১ টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে পুনরায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা গ্রুপের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ইয়াছিন, বাপ্পি, তানভির, ফাহিম মুতাছির, আরিফুল ইসলাম, ফরহাদ, জয় শাহা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে এবং ঢাকা গ্রুপের দাবি সংঘর্ষে তাদের মিজানুর রহমান বুলবুল, সৌমিক দাস প্রান্ত, সারোয়ার, নিলয় ও অনিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এরা সবাই সংবাদ লেখা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকা ও কুমিল্লা গ্রুপের সদস্যদের ফোন করেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফরহাদ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে দুপুর ১২ টার দিকে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের পেছনে লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে উত্তর ও ময়মনসিংহ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ওলী আহম্মেদ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিচার দাবি করে প্রতিবাদ লিপি দিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য সকল ঘটনার বিচারের আশ্বাস দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত