বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মধ্যে লোকসভার ছাড়পত্র পাওয়ার দুদিন পর রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হ্ওয়ায় উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে আসামের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় গোটা উত্তরপূর্ব ভারতের পরিস্থিতির ওপর সেনাবাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ পরিস্থিতি দমনে ইতোমধ্যে আসামের ৪ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
গুয়াহাটিসহ জোরহাট শহর ও তিনসুকিয়া এবং ডিব্রুগড় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
গুয়াহাটি এবং ডিব্রুগড়ে ইতোমধ্যে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। যে কোনো ধরনের জমায়েত, মিটিং, মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১০ জেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। বিপর্যস্ত সড়ক ও রেল পরিষেবা। অবরোধের জেরে অন্তত ১০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
কয়েক দিন ধরে ত্রিপুরা, মণিপুর ও অরুণাচলে চলছে বিক্ষোভ মিছিল। মঙ্গলবার ছাত্রদের নেতৃত্বে বহু মানুষ রাস্তায় মিছিল করতে থাকে। অনেক জায়গায় উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি (সিএবি) সোমবার মধ্যরাতে লোকসভায় পাশ হয়। এর দুদিন পরই বুধবার রাজ্যসভায় পাশ হয় বিলটি। এখন শুধু রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই আইনে পরিণত হবে সিএবি।
ওই বিলে কেন শুধু অ-মুসলিমদের (হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ) সুবিধা দেওয়া হল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছেন বিরোধীরা।
তাদের অভিযোগ, মুসলিমদের সঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যেই বিলটি আনা হয়েছে।
এর ফলে আরও মসৃণ হবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ। ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে থেকে তারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে বাস করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।
