হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজের উদ্বোধন করবেন। টার্মিনালটি চালু হলে নতুন করে বছরে সেবা পাবেন অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। আর সব মিলিয়ে বিমানবন্দরটিতে বছরে সেবা পাওয়ার সংখ্যা দুই কোটিতে দাঁড়াবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।
মফিদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প তৃতীয় টার্মিনাল। টার্মিনালের নির্মাণ উপকরণের মান নিয়ে আমরা কোনো আপস করিনি। অনেক ঠিকাদার চেয়েছিল নিমœমানের উপকরণ দিয়ে ম্যানেজ করতে। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ দিইনি। জাইকার চাওয়া অনুযায়ী, উন্নত দেশের এয়ারপোর্টে যেসব উপকরণ লাগানো হয়েছে। সেই উপকরণই এখানে লাগানো হবে। তৃতীয় টার্মিনাল হবে পুরোপুরি অটোমেটিক। সেখানে নির্ধারিত স্থানে দায়িত্ব থাকবে, ট্যানেল থাকবে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং উন্নত হবে।
তিনি জানান, টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫ সালে টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টারপ্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়। ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই চায় বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। আমাদের ক্যাটাগরি মাঝখানে খারাপ হয়েছিল, সরকার দিকনির্দেশনা দেওয়ায় আমরা কাজ করে ক্যাটাগরিতে উন্নতি করেছি। লন্ডন ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমেরিকায় ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। ওই দেশের একটি টিম আসবে আগামী সপ্তাহে। তারা এলে অ্যাসেসমেন্ট দেবে, তারপর একটা সিদ্ধান্ত আসবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সুখবর দিতে পারব। তা ছাড়া টরেন্টো ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছি। এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। কক্সবাজার বিমানবন্দরের অনিয়ম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণে অনিয়ম হয় না এটা বলব না, আমরা এ ব্যাপারে সজাগ আছি। আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরাও আছেন, সহযোগিতা করবেন। পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছি। কেউ দায়বদ্ধতার বাইরে নয়, কক্সবাজার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত হয়েছে, এখন বিভাগীয় তদন্ত চলছে। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে বিচার শেষ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ড্রোন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। অনুমতি নিয়ে সেটা পরিচালনা করতে হবে। কেউ চাইলে অনলাইনে চাহিদা দিতে পারবেন– কোথায় পরিচালনা করবেন। সব সংস্থার অনুমতি নিয়ে ড্রোন পরিচালনা করা যাবে। পদ্মার আশপাশে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করার জন্য দুটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। সময় হলেই তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
