যশোরের চৌগাছায় আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় এক নিরপরাধী ব্যক্তিকে কারাভোগ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিরপরাধ ওই ব্যক্তি মরহুম আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজ। মূল আসামির বয়স ৩০ হলেও গ্রেপ্তার আব্দুল আজিজের বয়স ৬১।
মামলার মূল আসামি আজিজের আইনজীবী শাহিনুর রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের লোহিতমোহন সাহার ছেলে নবকুমার সাহার বাড়িতে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর নবকুমার সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। ২০১১ সালের ৩০ মার্চ মামলার আইও এসআই গাজী আব্দুল কাইয়ুম নয়জনকে অভিযুক্ত করে লুটতরাজ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে সাত নম্বর আসামি করা হয় চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে। চার্জশিটে এই আজিজের বয়স উল্লেখ করা হয় ৩০ বছর।
চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১২ সালের ১ মার্চ পুলিশ মামলার মূল আসামি আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে। আদালত আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠায়। ৫ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। অ্যাডভোকেট শাহিনুর আলম শাহিন তার পক্ষে ওকালতনামা ও জামিননামা দাখিল করেন। সে সময় থেকেই আব্দুল আজিজ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছেন। এই তথ্য আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী ও সিংহঝুলি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আব্দুল আজিজ আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৭ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ৯ ডিসেম্বর রাতে চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ প্রকৃত আসামি আহাদ আলী কারিগরের ছেলে আব্দুল আজিজকে বাদ দিয়ে মৃত আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান। জজ আদালত অবকাশকালীন বন্ধ থাকায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আব্দুল আজিজকে কারাগারে পাঠিয়েছে। এরপর থেকে নিরপরাধ আব্দুল আজিজ কারাবাসে রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রকৃত আসামি আব্দুল আজিজের বর্তমান বয়স আর নিরপরাধ আব্দুল আজিজের বয়স আলাদা। আর আসামি আব্দুল আজিজের বাবা আহাদ আলী কারিগর জীবিত। নিরপরাধ আব্দুল আজিজের বাবা আহাদ আলী দফাদার মৃত।
চৌগাছা থানার এএসআই আজাদ বলেন, ওয়ারেন্ট এবং ওই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনিই স্বীকার করেছেন তার নামে একটি মামলা ছিল যা তিনি মিটিয়ে ফেলেছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার আব্দুল আজিজের পরিবার থেকেও জানানো হয়নি যে, সে মামলার আসামি না। তাহলে এখন এ কথা আসছে কেন? গ্রেপ্তার আব্দুল আজিজ যদি মামলার আসামি না হন তাহলে তাকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে। নাম ঠিকানা মিল থাকার কারণে আমাদের কিছুই করার নেই।
তবে নিরপরাধ আজিজের স্ত্রী জলি বেগম বলেন, আটকের সময় আমরা অনুরোধ করে পুলিশকে বলি তিনি দিন মজুরি করে সংসার চালান, তার নামে কোন মামলা নেই। পুলিশের ভুলেই তিনি দোষ না করেও এখন জেল খাটছেন।
