বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনের ধর্ষণে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১২) সন্তানসম্ভবা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন, জুয়েল ও রনি।
ওই ছাত্রীকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরিণত বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ওই ছাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শিশুটির বাবা দিনমজুর ও মা বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চিকিৎসকদের দেয়া কয়েকটি মেডিকেল রিপোর্ট টাকার অভাবে করাতে পারেননি।
অন্যদিকে, প্রভাবশালীদের চাপে এ ঘটনায় ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেনসহ জড়িতদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সাংবাদিকদের কাছে খবর পেয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি ওই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি মামলার অভিযোগপত্র থেকে কেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের বাদ দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখারও আশ্বাস দেন।
গত ১০ ডিসেম্বর রাতে ওই ছাত্রীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে। শুক্রবার সরেজমিনে ধর্ষণের শিকার শিশু ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।
ধর্ষণের শিকার শিশুটি ও তার পরিবার জানায়, প্রায় ৯ মাস আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথম ধর্ষণ করে। অপর এক নারী শিক্ষক এই ধর্ষণে সহায়তা করে। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকিও দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর প্রায়ই তিনি ধর্ষণ করেছেন। ওই খবর স্থানীয়ভাবে লোকমুখে জানাজানি হলে দুই প্রতিবেশী জুয়েল ও রনিও ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে গর্ভবতী হওয়ার চার মাস পর বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছাত্রীকে তার মা জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। পরে ছাত্রীর মা স্কুলে গিয়ে সকল শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানালে তারা তাকে কোন সহযোগিতা না করে উল্টো ভয়ভীতি দেখায়।
শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মৃদুলা কর জানান, শিশুটির গর্ভের প্রকৃত অবস্থা জানতে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টাকার অভাবে শিশুটির বাবা-মা কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেনি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই তার শারীরিক অবস্থা জানা যাবে। তবে অপরিণত বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ওই শিশুর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ধর্ষণের শিকার শিশুর মা জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর গত ২২ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ধর্ষণকারী শিক্ষক ও দুই প্রতিবেশীর নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেয়ার আগে ৬ নম্বর ফরিদপুর ইউপির সদস্য, চেয়ারম্যান, স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্কুলের অন্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের নাম বলতে নিষেধ করে। প্রধান শিক্ষকের নাম বললে সে কোন বিচার পাবে না এবং লোকে তাকেই বরং খারাপ জানবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ জুয়েল নামে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই মামলায় বর্তমানে জুয়েল কারাগারে রয়েছে।
