‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ ২০১৯’-এ শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহসিনা হোসাইন।
গত ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। উচ্চতর গবেষণার জন্য তিনি সম্প্রতি পেয়েছেন ‘ইউজিসি পিএইচডি ফেলোশিপ ২০১৯’।
মোহসিনা হোসাইনের জন্ম বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায়। তার বাবা মো. মোজাম্মেল হোসাইন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মা হেলেনা পারভীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্বামী আরাফাত শাহরিয়ার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের সহকারী পরিচালক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণি নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে বিভাগে ছা্ত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন ২ বছর। সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন ২০১৮ সালের জুলাই থেকে এক বছর। এরপর তিনি শিক্ষাছুটি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন।
শিক্ষকতাকে কেবল পেশা নয়, গ্রহণ করেছেন ব্রত হিসেবেও। নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে। ক্লাসে পড়ানোর পাশাপাশি ক্লাসরুমের বাইরে শিক্ষার্থীদের জীবন বদলানোর মাধ্যমে সমাজকে বদলে দিতে উৎসাহিত করেন তিনি।
মোহসিনা হোসাইন বলেন, ‘প্রত্যেক নারীই তার নিজ জীবনপথে একেকজন জয়িতা। তবুও বলব, জয়িতা সম্মাননা প্রাপ্তি সমাজ ও দেশের প্রতি কর্তব্য পালনে আমাকে আরো উৎসাহিত করবে। আমাদের সমাজের বাস্তবতায় একজন কন্যা সন্তানের আত্মনির্ভরশীল হওয়াটা একজন পুত্র সন্তানের চেয়েও বেশি দরকার। অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার।’
