তোমাদের কাজ নাই, গিয়ে পড়তে বস: সাংবাদিকদের ধমক দিলেন প্রভোস্ট

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:৩৮ পিএম

বিজয় দিবস উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে ফিস্ট (উন্নতমানের খাবার) পরিবেশনে অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের ধমক দিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মো. হাসানুজ্জামান আকন্দ বলেন, ‘যাও গিয়ে লিখ সবকিছু সুন্দর ভাবে চলছে’।

সোমবার বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক হলগুলোতে রাতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতি বছরই বিক্রীত টোকেনের তুলনায় অধিক খাবারের আয়োজন, প্রটোকলের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বাসায় খাবার প্রদান, অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ছাত্র নেতাদের খাবার প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট প্রফেসর মো. হাসানুজ্জামান আকন্দ সাংবাদিকদের ধমক দিয়ে বলেন, ‘খুঁচাইতে আসছ, এগুলো তোমাদের জানার দরকার নাই, যাও’।

কতজন শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বলবো না। তোমাদের কাজ নাই গিয়ে পড়তে বস, যাও, কে কোথায় গাঞ্জা খাইছে, কে কোথায় কি করছে, খালি এসব, যাও গিয়ে লিখ সব কিছু সুন্দর ভাবে চলছে’।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে মোট ৬৮০টি টোকেন বিক্রি করা হলেও ৭৫০টি টোকেনের আয়োজন করা হয়। নবাব সিরাজ উদ-দৌলা হলের মোট এক হাজার টোকেন বিক্রি করা করা হলেও ১১৫০টি টোকেনের আয়োজন করা হয়। ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের মোট ৬৫০টি টোকেন বিক্রি করা করা হলেও ৯২০টি টোকেনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রটোকল রক্ষা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বাসায় ফিস্টের খাবার পাঠানোটা এখানকার প্র্যাকটিস।

একজন শিক্ষার্থীর একাধিক টোকেন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোছা. আফরোজ জাহান বলেন, কিছু ছাত্রী অতিরিক্ত টোকেন নেয়, এটা অনিয়ম, আর এসব কাজ করে হলের নেত্রীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেকৃবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. সেকেন্দার আলী বলেন, এসব আয়োজনে চাহিদার তুলনায় কিছু বেশি খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে চাহিদার তুলনায় তা অস্বাভাবিক বেশি হলে সেটি উদ্বেগজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত