সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় জনস্বার্থ নেই বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।
তিনি বলেছেন, সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা এগুলো এখন আর সরকারের কাছে বিবেচিত হয় না।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘দলিত ও সমতলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৯’- এর প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান আয়োজন করে ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম। সহযোগিতায় ছিল সেন্টার ফল সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম ও হেকস ইপার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ হয়েছে জমি দখল। আবার জমির কারণে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন।
সুলতানা কামাল বলেন, সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। আবার বৈষম্যের হাত থেকে দলিতদের সুরক্ষা দিতে বৈষম্য বিলোপ আইনটি ছয় বছর ধরে ঝুলে আছে। কিন্তু কোনোটিতে সরকারের দৃষ্টি নেই।
তিনি বলেন, কোনো কোনো সময় পাঁচ মিনিটেই আইন পাস হয়। সেসব আইনে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের অধিকার হরণ হয়। কিন্তু প্রান্তিক মানুষের প্রয়োজনীয় আইন ঝুলে থাকে। এসব প্রমাণ করে, অধিকারহীন মানুষের স্বার্থের বিষয়টি এখন আর সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় নেই।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।
মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
দলিত নেত্রী বনানী বিশ্বাস বলেন, সামান্য যে সম্পদ দলতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আছে, সেটুকুতেও অনেকের দৃষ্টি। আর একে গ্রাস করতে এসব সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর পীড়ন চলে।
অনুষ্ঠানে হেকস ইপারের কর্মকর্তা নুরুন নাহার বলেন, দলিত ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে। এর জন্য গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক।
