সচিবালয়ের চারপাশের ঘোষিত নীরব এলাকায় (নো হর্ন জোন) আইন লঙ্ঘন করে হর্ন বাজানোয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এলাকাটিকে নীরব হিসেবে কার্যকরের অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আদালত তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে। এদিন হর্ন বাজানোয় মোট ১৫ জনকে জরিমানা করে আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের আশপাশের জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নীরব জোন হিসেবে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এরপর বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব।
উপসচিবকে জরিমানার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ।
উপসচিবের নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে তিনি বলেন, সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় জনপ্রশাসনের এক উপসচিব গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় হর্ন বাজান। এ অপরাধে তার গাড়ি আটক করা হয়। পরে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় উপসচিব নিজেই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসা ছিলেন।
তিনি জানান, এদিন মোট সাতজন জিপ ও গাড়িচালককে এবং আট মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা করা হয়। সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় প্রথম দিন তাদের সাড়ে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রবিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাজী তামজীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীতে হর্ন বাজানোর জন্য আমার মনে হয় এটাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রথম জরিমানা। সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রাথমিকভাবে কম করে জরিমানা করা হয়েছে। বারবার আইন লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে। এখন থেকে আমরা প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দু’দিন নীরব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এর ধারা ৮(২) অনুযায়ী, কেউ বিধান লঙ্ঘন করে নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ পরবর্তীতে করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
