দ্বিগুণ খরচে নিম্নমানের হাজিরা মেশিন কেনার অভিযোগ

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৪ পিএম

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে চার উপজেলায় বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ জুনেই টাকা উত্তোলন করে নিলেও দীর্ঘদিনেও কোনো বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়নি। যে উপজেলায় কেনা হয়েছে সেখানে অভিযোগ রয়েছে প্রাথমিকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের মেশিন সরবরাহ করে দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

পঞ্চগড় জেলায় ৬৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবার সিøপের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকায়। কিন্তু পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার মধ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলা বাদে অন্য চারটি উপজেলার ৫২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নিলেও এখনো কোনো বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়নি। দেবীগঞ্জ উপজেলার ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে। তাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, রংপুর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার জয়নুল বারীর ছেলে বুয়েটের ছাত্র মহসিনুল বারীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইনোভেস টেকনোলজির মাধ্যমে ‘টিপসই স্মার্ট অ্যাটেনডেন্স’ নামের বায়োমেট্রিক মেশিন কেনাবেচা চলছে। আর তাদের কাছ থেকে নিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে ওই মেশিন সরবরাহ করেছে ইউরো বাংলা আইটি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের ইশারায় শিক্ষকদের ঘাড়ে ওই প্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন চাপিয়ে দিয়ে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। নিরুপায় শিক্ষকরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের চাপে তা কেবল বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তবে কেউ মুখ খুলছেন না।

জানা যায়, একই ধরনের মেশিন বাজারে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও তারা নিয়েছেন ২১ হাজার ৫০০ টাকায় (ভ্যাটসহ)। কিছু মেশিন লাগানোর দু-এক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেকেই সকালে এসে হাজিরা দিয়ে মাঝের সময়টাতে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আবার ছুটির সময়ে হাজিরা দেওয়ায় মেশিনটি তেমন কোনো কাজে আসছে না। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার বড় অংশই বায়োমেট্রিক মেশিন কেনায় খরচ করায় অন্য কাজ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে বাকি ৫২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার নামে উত্তোলন করা টাকায় কী করা হয়েছে তা কেউ জানে না। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলছেন, তারা বায়োমেট্রিকের জন্য টাকা তুলে রেখে দিয়েছেন।

দেবীগঞ্জের অমরখানা-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুবিনা বেগম বলেন, ২১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু মেশিনটি চালু করার দুই মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।

দেবীগঞ্জের শালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশেই সিøপের টাকা থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনা হয়েছে। আমরা তার কাছে টাকা জমা দিয়েছি।

দেবীগঞ্জের কুলুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, বায়োমেট্রিক মেশিন আমাদের নিজেদের কেনার কথা থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে আমরা সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা একসঙ্গে একই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়েছি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা রংপুর বিভাগের সাবেক বিভাগীয় কমিশনারের ছেলে মহসিনুল বারীর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ইউরো বাংলা আইটি লিমিটেড আমাদের মেশিনটি সরবরাহ করেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেব। কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত