ভারতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় টুপি ও লুঙ্গি পরে ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় এক বিজেপি কর্মীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, বুধবার স্থানীয়রা হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে তাদের। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনের ট্রেনে পাথর ছোড়ার সময় ৬ জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে রাধামাধবতলার বাসিন্দারা।
আটকদের মধ্যে অভিষেক সরকারকে (২১) বিজেপি কর্মী বলে শনাক্ত করা গেছে। বাকিরা তার সহযোগী। ঘটনাস্থলে ছিল মোট সাতজন, একজন পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মুকেশ বলেন, ‘আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা লুঙ্গি ও ফেজ টুপি পরে ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও তৈরি করছিল। কিন্তু সেই ইউটিউব চ্যানেলের কোনো অস্তিত্বই তারা দেখাতে পারেনি।’
স্থানীয়রা জানিয়েছে, অভিষেকের বাড়ি পার্শ্ববর্তী শ্রীশনগর এলাকায়। একাধিকবার তাকে বিজেপির নানা কর্মসূচিতে দেখা গেছে।
এক গ্রামবাসী বলেন, ‘রেললাইনের পাশেই তাদের পোশাক পালটাতে দেখেই সন্দেহ হয়। কর্মকাণ্ডের কারণে অভিষেককে আমরা খুব ভালো করে চিনি। তখন তাদের আটকে রেখে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’
এদিকে স্থানীয় বিজেপি অভিষেককে নিজেদের কর্মী বলে স্বীকার করেছে। তবে বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, ‘সে আমাদের দলের কর্মী নয়। রাধামাধবতলার ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।’
ভারতজুড়ে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় কয়েকদিন আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভকারীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘পোশাক দেখেই বোঝা যায়, কারা সহিংসতা সৃষ্টি করছে।’
আবার এক প্রতিবাদ সভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপির ফাঁদে পা দেবেন না। ওরা হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছি, বিজেপি তাদের কর্মীদের জন্য ফেজ টুপি কিনছে, যাতে সহিংসতা করার সময় ছবি তুলে মুসলিমদের বদনাম করতে পারে। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করছে।’
এমন পরিস্থিতিতে রাধামাধবতলার এই ঘটনা চাঞ্চল্য তৈরি করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
