ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণেও ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পিছু হটার বিন্দুমাত্র কোনো ইঙ্গিত দেননি।
বিবিসি জানায়, রবিবার দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় এক জনসভায় ভাষণে তিনি বলেন, পার্লামেন্ট এবং এমপিরা এই আইন পাস করেছে তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে।
মোদি যখন বিতর্কিত এই আইনের পক্ষে তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ভারতের বিভিন্ন শহরে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশে। যদিও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বলেছে, তারা কোথাও গুলি চালায়নি।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের প্রতি গুলি ছুড়ছে পুলিশ।
এসব নিহতের ঘটনা নিয়ে ভাষণে কিছু না বললেও বিক্ষোভের জন্য মোদি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা এই আইন নিয়ে মিথ্যা এবং ভুল তথ্য রটিয়ে বেড়াচ্ছে।’
ভারতীয় মুসলিমদের মোদি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এই আইন নিয়ে তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘তার সরকার কখনই কোনো নীতি বাস্তবায়নের সময় কারওর কাছ থেকেই তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায় না।’
ভারতের মুসলিমদের আশঙ্কা, নাগরিক তালিকা-এনআরসি এবং নতুন এই নাগরিকত্ব আইন ব্যবহার করে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে ফেলা হবে। আইনটিকে সংবিধানবিরোধী ও অনৈতিক দাবি করে পুরো দেশের মানুষ সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়ায় গোটা দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটে।
এদিকে সরকার বারবার বলছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ‘নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের’ আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আইন করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, এই আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বিজেপি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
তাদের বক্তব্য, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি এই নাগরিকত্ব আইন করেছে।
