ভারতে তথ্য পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশনের সাবেক কনস্টেবল দেবপ্রসাদ সাহার আবারও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশ সোমবার দেবপ্রসাদ সাহাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয় আদালত) মো. সাইফুদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দেবপ্রসাদ সাহা খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা সদরের সুরেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার ফের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপাচারের অভিযোগ এনে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান কনস্টেবল দেবপ্রসাদ সাহার বিরুদ্ধে ওই থানায় একটি মামলা করেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর সকালে বেনাপোল বন্দর থানা-পুলিশ দেবপ্রসাদ সাহাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবপ্রসাদ সাহা ঢাকার উত্তরা ১ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বেনাপোল পুলিশ ইমিগ্রেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
সেখানে থাকা অবস্থায় তিনি যখন-তখন শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া আসা করতেন। বেনাপোলে দায়িত্ব পালনকালে সেদেশের বিশেষ বাহিনীর দুজন সদস্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। ভারতে গিয়ে এস চক্রবর্তী ও পিন্টু নামে দুজনের কাছে বাংলাদেশের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
২০১৮ সালের শেষের দিকে দেবপ্রসাদ সাহা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত একটি পেনড্রাইভ শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতে পাচার করেন। এর ১৫ দিন পর তিনি বিশেষ বাহিনীর এক সদস্যের কাছ থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংবলিত পেনড্রাইভ এনে ভারতের এস চক্রবর্তী ও পিন্টুর কাছে হস্তান্তর করেন।
এজাহার থেকে আরও জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর ঢাকার কমলাপুরের একটি হোটেল থেকে ডিজিএফআই ও র্যাবের হাতে শাহানেওয়াজ শাহীন নামে এক সৈনিক আটক হন। এ সময় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়। তিনি ভারতে তথ্যপাচারের বেশ কিছু বিষয় জানান। পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টার তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে দেবপ্রসাদ সাহা ও শাহানেওয়াজ শাহীনের কথা বার্তার ভিডিও সিডির মাধ্যমে তথ্য পাচারের বিষয়টি ধরা পড়ে।
