শীতজনিত রোগে লক্ষ্মীপুরে ৮ দিনে হাসপাতালে ১৪৮ শিশু

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৫ পিএম

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীপুরে ঠান্ডাজনিত কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এক মাস বয়সী থেকে ৪ বছর পর্যন্ত শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গত ৮ দিনে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ১৪৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত এসব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।

অপরদিকে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীকে সুস্থ করে তুলতে তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে অভিভাবকদের সচেতন থাকার জন্যই চিকিৎসকগণ অনুরোধ করেন।

এ ছাড়া জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৫টি বেড রয়েছে। শনি ও রবিবার নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত ৩১ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও প্রায় ৩০ জন শিশু ভর্তি ছিল। এতে নতুন রোগীদের বেডে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ রোগীকে বেড শেয়ার করতে হয়েছে। আবার অনেককেই মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেড শেয়ার করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেক রোগীর স্বজনদের।

বেশ কয়েক জন রোগীর আত্মীয়রা জানান, হাসপাতালে বেড সংখ্যা কম। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে মেঝেতে থাকা কষ্টসাধ্য। একই কারণে মাঝে মাঝে বেডও শেয়ার করতে হয়। এতে শিশুকে চিকিৎসা করাতে এসে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।  

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মোরশেদ আলম হিরু বলেন, গত কয়েকদিন লক্ষ্মীপুরে প্রচণ্ড শীত পড়ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ভাইরাসের আক্রমণ বেড়ে যায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এ জন্যই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই ৫০-৬০ জন শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৩-৪ দিনে ঠান্ডাজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্য বেশির ভাগই শিশু। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে দেড় শতাধিক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন আবদুল গফ্‌ফর জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বাচ্চাদের কোনোভাবেই ঠান্ডায় বের করা যাবে না, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গরম জামা গায়ে রাখলে শিশুরা শীতজনিত রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত