জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে লোকোমোটিভ কারখানা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ এএম

অর্ধেকেরও কম জনশক্তি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের একমাত্র কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা)।

প্রতি ৬ বছর পরপর বাংলাদেশ রেলওয়েতে সংযুক্ত প্রত্যেকটি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত ও দুর্ঘটনাকবলিত, ত্রুটিযুক্ত রেল ইঞ্জিনের বিশেষ মেরামতের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করে পুনরায় রেল বহরে সংযুক্ত করতে কাজ করা হয় এ কারখানায়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ জনবলের অভাবে প্রতি বছর ইঞ্জিন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এ কারখানায় মাঝে মধ্যে খালাসি পদে জনবল নিয়োগ করা হলেও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগায় তারাও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালের ১৪ মে বৈদেশিক উন্নয়ন তহবিলের (সৌদি) আর্থিক সহায়তায় ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুর রেলস্টেশনের অদূরে পার্বতীপুর-সৈয়দপুর সড়কের পাশে ১১১ একর জমির ওপর পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানাটি স্থাপিত হয়। কারখানায় যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্টোরসহ ১১টি বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের জন্য বরাদ্দ মোট জনবলের সংখ্যা ৫৪৫ জন। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩৬ জন। আর শূন্য পদ রয়েছে ৩০৯টি। এ অবস্থায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে কোনোরকমে চলছে এ কারখানার কার্যক্রম। এতে ইঞ্জিন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কাি•ক্ষত সেবা দিতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারা দেশে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন সংখ্যা ২৬৩টি। এর মধ্যে ব্রডগেজ (বিজি) লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ৯০টি ও মিটারগেজ ১৭৩টি।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এ কারখানায় ৮৫ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৫৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা থেকে ভারী মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা ২৪টি হলেও জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী মেরামত শেষে আউট টার্ন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১০টি ও বিশেষ মেরামত করা হয়েছে ২৩টি রেল ইঞ্জিনের। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের (জেনারেল ওভার হোলিং) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১টি। ভারী মেরামত শেষে আউট টার্ন করা হয়েছে ১৮টির। আর বিশেষ মেরামত করা হয়েছে ২৫টি ইঞ্জিনের।

সারা দেশে চলমান যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনে ব্যবহৃত প্রতিটি ইঞ্জিন ৬ বছর পরপর পূর্বনির্ধারিত শিডিউল মোতাবেক জেনারেল ওভার হোলিং বা ভারী মেরামত করা হয়। এ ছাড়াও দুর্ঘটনাজনিত ইঞ্জিনের বিশেষ মেরামত করা হয়। এভাবে এ কারখানা সারা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও মঞ্জুরিকৃত জনবল না থাকায় এর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।  

গতকাল রবিবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিএক্স) প্রকৌশলী কুদরত-ই-খুদা বলেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ ও দক্ষ জনবলের অভাবে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত