গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সরকারি প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় ভালো আবাসন ব্যবসায়ীদের ইমারত নির্মাণের কাজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের আবাসন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলে তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি থাকবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার তুরাগ নদীর পাড় ও কেরানীগঞ্জে স্যাটেলাইট সিটি, ঝিলমিল সম্প্রসারণ, পূর্বাচল এবং উত্তরা ৩য় পর্ব প্রকল্পে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেটা আমরা ব্যবস্থা করবো।’
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিহ্যাব আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন রিহ্যাবের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ও লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে, জাতির পিতার নেতৃত্বের বাংলাদেশে সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হবেন, আর ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা লুটেপুটে খাবে- এটা শেখ হাসিনা সরকার হতে দেবে না। যিনি সততার সঙ্গে ভালো কাজ করবেন, তার জন্য আমরা সবকিছু করবো। দুর্নীতি ও অনিয়মের ন্যূনতম স্পর্শ যার সঙ্গে থাকবে, তার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা- সেবাকে সহজীকরণ করতে হবে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় টেবিলে টেবিলে অনাকাঙ্ক্ষিত চাহিদা মেটাবার প্রবণতা দূর করার জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। নকশা অনুমোদনে ১৬টি স্তরে যেতো হতো। সেবা সহজীকরণের জন্য, রিহ্যাব, স্থাপত্য বিভাগ, নগর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সভা করে ১২টি স্তর বাদ দিয়ে মাত্র ৪টি স্তর রেখেছি। এই চার স্তরেও হয়রানির অভিযোগ দূর করার জন্য অটোমেশন চালু করেছি।’
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ভূমির ছাড়পত্রের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, ভোগান্তির শিকার হতে হতো, উৎকোচ দিতে হতো। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমির ছাড়পত্র, আমমোক্তার নামা ও নামজারির দেওয়ার বিধান করে দিয়েছি। বলে দিয়েছি, যার টেবিলে কাজ আটকে থাকবে, তাকে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’
রিহ্যাব সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রিহ্যাবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে না। টেন্ডারে অংশগ্রহণের জটিলতা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনেছি। পিপিআর সংশোধন নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন কাজ করছে। এ সমস্যাগুলো দূর হলে নতুন ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যারা সততার সঙ্গে আইন মেনে ব্যবসা করেন, অসাধু আবাসন ব্যবসায়ীরা তাদের সুনাম নষ্ট করছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপন সর্বস্ব ব্যবসায়ীরা স্বল্প আয়ের মানুষ বা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়ের টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এরা রিহ্যাবের সৎ ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিচ্ছে। এদের ব্যাপারে বিজ্ঞাপন দিয়ে রিহ্যাব সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে পারে। সরকারের একার পক্ষে সবকিছু দেখভাল করা সম্ভব হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জালিয়াতি করে টাকা নেওয়ার প্রবণতা ভুলতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতি ও কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ভুলতে হবে। আসুন সবাই মিলে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় শামিল হই।’
অনুষ্ঠানে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান গণপূর্তমন্ত্রী আমাদের কথা দিয়েছিলেন অল্প দিনের মধ্যেই ওয়ানস্টপ সেবা সার্ভিস চালু করবেন। তিনি সে কথা বাস্তবায়ন করেছেন। শুধু তাই নয়, অনলাইনে এখন প্ল্যান পাস করা হচ্ছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীও এ বিষয়ে কথা দিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিলে আমাদের এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গণপূর্তমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে- সরকারি কোনো দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হলে যে শর্ত দেওয়া হয়, সেই শর্ত অনুযায়ী আমরা অংশ নিতে পারি না। অথচ রিহ্যাব ঢাকাসহ সারাদেশে বড় বড় ভবন তৈরি করে স্কাইলাইন পরিবর্তন করেছে। তাদের যে অভিজ্ঞা আছে, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। সেই কারণে রিহ্যাব সদস্যরা যেন সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে পারে, সে সুযোগ আপনি করে দেবেন বলে এমন দাবি জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
