ভিপি নুরের ওপর হামলায় লাঠি হাতে ভাইরাল সেই ছাত্রলীগ নেত্রী

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৫৩ পিএম

ছাত্রলীগ নেত্রী ফাতেমা রিপা প্রথম ভাইরাল হন ফেইসবুকে কান্নার ঝড় তুলে। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাঁশঘর গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

চলতি বছরের ৬ এপ্রিল রামগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন তাকে মঞ্চ থেকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে ফেইসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করেন ফাতেমা রিপা।

এ সময় ফেইসবুক লাইভে এসে ছাত্রলীগ নেত্রী রিপা জানান, আমি ফাতেমা রিপা। একমাত্র নেত্রী, ‘যে কি না উপজেলা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। অথচ দলীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে আমি বঞ্চিত। কেন আমাকে এভাবে অপমানিত করা হবে?  বারবার আমাকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বসার জায়গা না দিক, আমি প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকব। আমি ছাত্রলীগ করি, আমার দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস আছে। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো অপমান আর কোনো কিছুতে নেই’।

ফেইসবুকে লাইভে এসে কান্নাকাটির পর দীর্ঘদিন ছিলেন লাপাত্তা। খুব একটা প্রকাশ্যে না আসলেও অসহায় শিশুদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানোসহ সড়কের ওপর হাসপাতালের বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য ফেইসবুক লাইভে আসেন কয়েকবার।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে লাঠি হাতে আবার ভাইরাল হন তিনি।

তার লাঠি হাতে ছবি প্রকাশ পেলে রামগঞ্জ উপজেলাসহ জেলায় তোলপাড় শুরু হয়।

বিভিন্ন মিডিয়া ও ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে ফাতেমা রিপা তার ফেইসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তিনি মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করেন লাঠি হাতে ভাইরাল হওয়া ওই তরুণী তিনি নিজে। তিনি বলেন, হামলা প্রতিহত করতেই তিনি রাস্তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি তুলে নেন।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শরীফের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান ফয়সাল মাল জানান, ‘অনেক দিন থেকে ফাতেমা রিপার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি ফাতেমা রিপা এখন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি হামলার বিষয়টি খুব ভালো বলতে পারব না, তবে গণমাধ্যমের কারণে বিষয়টি জেনেছি’।

জানা গেছে, ছোট বেলা থেকে নাচ গানের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ ছিল রিপার। মঞ্চ নাটক থেকে শুরু করে গানের অনুষ্ঠানেও ছিল তার অবাধ বিচরণ। রামগঞ্জ অনির্বাণ সাংস্কৃতিক সংসদ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংসদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

রামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর রামগঞ্জ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।

স্কুলজীবনেই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। রামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে যোগ দেন। মিছিলের অগ্রভাগে থাকতেন সব সময়ই। দলীয় ও জাতীয় প্রতিটি অনুষ্ঠানে ছিল তার সরব উপস্থিতি। নিজের ছবি দিয়ে ব্যানার পোস্টারে দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানাতো প্রায়ই।

দলের সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টিতে আসার পর প্রায় তিন বছর আগে গঠিত রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

উপজেলা শহরের বাইরেও শুরু হয় তার পদচারণা। জেলা ছাত্রলীগের সভা সেমিনারসহ দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেন ফাতেমা রিপা। মায়ের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে তার বেগ পেতে হতো না। তবে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার একটা দূরত্ব সব সময়ই দৃষ্টিগোচর হতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত