সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মনিরপুর এলাকায় জামতৈল-বন্যাকান্দি সড়কের কংক্রিট সেতুর টপস্ল্যাবের মাঝখানটা মাস তিনেক আগে ভেঙে দেবে গেছে। গত ১৫ দিন আগে এই দেবে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় গাছের গুঁড়ি (ইউক্যালিপ্টাস) দিয়ে সেতুর নিচ থেকে ঠেকনা (পিলার) দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সড়কে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ। তবে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং অটোভ্যানসহ হালকা যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এ বিষয়ে মনিরপুর গ্রামের কোরবান আলী আকন্দ, আছামউদ্দিন, আলতাফ হোসেন ও কবিরউদ্দিন জানান, গত তিন মাস আগে সেতুটির মাঝখানে ভেঙে দেবে গেছে। ফলে উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলার কমপক্ষে ২০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুল হামিদ জানান, তিন মাস আগে সেতুটির মাঝখানে ভেঙে দেবে যায়। এলাকাবাসীকে নিয়ে মেরামতের জন্য উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করি। কিন্তু সময়মতো সেতুর মেরামত কাজ না করায় গত ১৫ দিন আগে আরও বেশি ভেঙে দেবে যায়। এতে এ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলাকাবাসী যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়ে। নিরুপায় হয়ে পাঁচ দিন আগে ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ইউক্যালিপ্টাস গাছের গুঁড়ি দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। এতে সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটোভ্যান-রিকশা চলাচল করছে।
তিনি আরও জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বিকল্প সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আশা করি এ সপ্তাহের মধ্যেই এর কাজ শেষ হবে। এটি হয়ে গেলে আর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হবে না। এদিকে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ওই কালভার্টের একপাশে ভারী যানবাহন চলাচল না করার পরামর্শ দিয়ে একটি সতর্কীকরণ নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যানবাহনের চালকরা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়মিত সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে।
এ বিষয়ে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফিরোজ জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা অচিরেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, মনিরপুর সেতুর বিষয়ে অবহিত হয়েছি। অচিরেই সেখানে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে ওখানে একটি নতুন কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হবে। এটি হয়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
