দেশের ১৩টি শতবর্ষী কলেজকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর আমরা অনেকটা সময় নষ্ট করেছি। সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের ভেতর আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন দেশে গণতন্ত্র রয়েছে। সময় এসেছে শিক্ষার মানের দিকে নজর দেওয়ার। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী কলেজের এইচএসসি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘মানসম্পন্ন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমরা প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সবক’টি স্তর নিয়ে কাজ করব। সেই সঙ্গে অবকাঠামোগতও উন্নয়ন করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ হবে আনন্দময়। পড়াশোনার চাপে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যেন আনন্দ হারিয়ে না যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।’
শিক্ষকদের গবেষণার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকরা গবেষণা কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করবেন। আমাদের দেশে গবেষণা হয়, কিন্তু ভাষার দুর্বলতার কারণে সেগুলো আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ হয় না। স্বীকৃতি আসে না। গবেষণার জন্য শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই ভাষাগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে।’
দেশসেরা রাজশাহী কলেজের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না যে এই কলেজে এসে মুগ্ধ হবেন না। ভাষার জন্য প্রথম আন্দোলন এখানেই হয়েছে, প্রথম শহীদ মিনারও এই কলেজেই। বাঙালির সব আন্দোলন-সংগ্রামে এই কলেজের অবদান অনস্বীকার্য।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া, ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার, কবি রজনীকান্ত সেন, চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক, ভারতীয় রাজনীতির পুরোধা জ্যোতি বসু, বিচারপতি হাবিবুর রহমানের মতো মহান ব্যক্তিরা এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন।
