সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মনে করেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।
শনিবার দুপুরে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে বরিশাল অঞ্চলের সব পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে ড. বদিউল আলম মজুমদার ইভিএম ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ বাতিল করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, ‘ড. বদিউল আলম মজুমদারকে আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মনে করি না। ইভিএম পদ্ধতি স্বচ্ছ। এ পদ্ধতিতে একের অধিক ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। একের ভোট অন্য কেউ দিতেও পারে না’।
তিনি জানান, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে হবে। এটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করার জন্যই ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম এর মাধ্যমেই ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব। এ কারণেই ইভিএম পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
এক নিকটাত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে দুদিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
নূরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনই নয়, পরবর্তীতে দেশের সব পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি প্রচলনের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে কত সময়ের মধ্যে এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা যাবে সেটা একটা চিন্তার বিষয়’।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু হবে আশা করে কমিশন। স্বচ্ছ নির্বাচনের পূর্বশর্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন’।
সব রাজনৈতিক দল অংশ নিলে ঢাকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী দরকার নেই। এই নির্বাচন পরিচালনায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি যথেষ্ট। তাদের সেই সামর্থ্য এবং যোগ্যতা আছে’।
বিগত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার কারণ জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আহ্বানকারী। তবে প্রার্থী কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দায়িত্ব ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া’।
ভোটকেন্দ্রে ভোটার না যাওয়া নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতার ফল কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘ভোটারদের আস্থাহীনতা তিনি মনে করেন না। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি বা কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি নেই। নির্বাচন কমিশন সবকিছুই ভোটারদের সামনে তুলে ধরে, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া-না যাওয়া বা আইনগত সহায়তা দেওয়া সবকিছুই নির্বাচন কমিশন করে থাকে। কোনো কোনো নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয় না। বড় বড় রাজনৈতিক দল বা বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে যায় না। তখন ভোটারদের মাঝে অনীহার সৃষ্টি হয়। ওই দলগুলোর সমর্থক ভোটাররা কেন্দ্রে যায় না’।
জনগণের আস্থাহীনতা কমাতে নির্বাচন কমিশন কী করবে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘কমিশন জনগণকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান করবে। ভোট পদ্ধতিতে ত্রুটি কখনো ছিল না এবং এখনো নেই’।
এর আগে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পদ্ধতির সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণকে নির্ভুল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।
এর জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং জাতীয় জীবনে জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পদ্ধতি সংস্কার করে সহজসাধ্য করার আশ্বাস দেন তিনি।
