দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে নিজের অনুসারীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মুুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভিপি নুর।
এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে দেশ রূপান্তরকে নুরুল হক নুর হাসপাতাল থেকে মোবাইলফোনে বলেন, 'সাদ্দামের রক্তে মিশে আছে মিথ্যাচার। তারা আমার ওপর যে হামলার করেছে সেটিকে আড়াল করতেই এসব নাটক সাজানো হচ্ছে। হামলার প্রমাণ গায়েব করতে সিসিটিভির ফুটেজও সরিয়েছে তারা। সনজিত ও সাদ্দামকে রিমান্ডে নিলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। হামলার পিছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে সেটিও বেরিয়ে আসবে'।
রোববার ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে সাদ্দাম হোসেন ভিপি নুরুল হকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করেন।
সিসিটিভির ফুটেজ গায়েবের পিছনে নুরুল হকের হাত রয়েছে দাবি করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, সংঘর্ষে লিপ্তদের প্রকৃত নাম, পরিচয় গোপন করার জন্য ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরিকল্পিতভাবে যারা গয়েব করেছিল তারাই সেদিন মূল ফটক বন্ধ করে ডাকসু ভবনে অবস্থান করছিল এবং তারাই সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছে।
ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হকের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ২২ ডিসেম্বরের ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত কোনো ডাকসু প্রতিনিধির বিন্দুমাত্র জড়িত নয়। এই হামলার সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কেউ কোনভাবেই জড়িত নয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।
সেগুলো হলো নুরুল হকের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, নুরের সহযোগী বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ডাকসু ভবন ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করতে হবে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ডাকসু ভিপিকে পদত্যাগ করতে হবে, সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করায় নুরকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
