বাঁধ নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যানের বাধা

কালিহাতীতে যমুনার ভাঙনে বাড়িঘর জমি বিলীন

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৭ পিএম

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ের সেতুরক্ষা মূল গাইড বাঁধের পাশে নতুন গাইড বাঁধের সীমানায় অসময়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গরিলাবাড়ি, বেলটিয়া, আলীপুর, বুরুপবাড়ি, পৌলিরচর, দৌগাতি ও বেঁড়িপটল গ্রামে ইতিমধ্যে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে পাঁচ পরিবারের পাকা ঘরবাড়ি-জমি। আরও অন্তত ১০টি বাড়ি রয়েছে হুমকির মুখে। ভাঙনরোধে বাঁধ দেওয়া যাচ্ছে না গোহালিয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বাধায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয়র অভিযোগ, একটি অসাধু মহল বাঁধের কোল ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে নিচের অংশের মাটি সরে গেছে। আর সে কারণেই ধসের ঘটনা ঘটছে। এলাকার ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান মতি বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে যে কোনো মুহূর্তে সেতুর পূর্ব পাড় হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে পূর্ব পাশে বসবাস করা মানুষদের হারাতে হতে পারে বাড়িঘর।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আকস্মিকভাবে যমুনা নদীর গরিলাবাড়ি অংশে এ ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, গাইড বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হলে অসময়ে এই বাড়িগুলো নদীগর্ভে বিলীন হতো না।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু সেতুরক্ষা বাঁধের ভাঙনরোধে স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেতু কর্র্তৃপক্ষ (বিবিএ) গরিলাবাড়ির পাথরঘাট থেকে ৪৫০ মিটার নদী এলাকায় ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড শহীদ ব্রাদার্স জেবি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণকাজের শুরু থেকেই গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি বাধা প্রদান করায় কাজটি বন্ধ রাখতে হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্র্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বলেন, গোহালিয়াবাড়ী  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার অহেতুক বাঁশের বেড়া দিয়ে কাজে বাধা দিয়ে রেখেছেন। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদারকে এ ব্যাপারে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘নিজের জমিতে বেড়া দিয়েছি। ঠিকাদারের কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটাইনি।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানা ছিল না। তবে দ্রুত বিবিএ কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন গতকাল রবিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে জানান, বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় এমপি সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের জন্য বলেছি। তিনি আরও বলেন, ভাঙন ঠেকাতেই এই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে, সেখানে বাধা দিলে তো তা সময়মতো সম্পন্ন করা যাবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত