দাবানল আতঙ্কে সিডনির আতশবাজি বাতিলের দাবি লাখো মানুষের

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১২ পিএম

দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল অঞ্চল। দেশটি জুড়ে ১০০ টিরও বেশি জায়গায় জ্বলছে আগুন। সবচেয়ে বেশি আগুন ছড়িয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসে। নভেম্বর থেকে জ্বলছে অঙ্গরাজ্যটি।

এমন পরিস্থিতি নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী সিডনিতে ইংরেজি নববর্ষের শুরুতে আতশবাজি উৎসব বন্ধের দাবি উঠেছে স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে।

বিবিসি জানায়, নতুন বছরের শুরুতে সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউস ও হার্বার ব্রিজের আতশবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এক পিটিশন সই করেছে লাখ লাখ মানুষ।

এক মাস আগ থেকে সিডনির আতশবাজি উৎসব বন্ধের এই পিটিশন শুরু হয়। পিটিশনের উদ্যোক্তা লিন্ডা ম্যাকোরমিক দাবি করেন, নববর্ষ উদ্‌যাপনে যে টাকা খরচ হবে তা কৃষক এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের দিয়ে দেয়া উচিত, বন্যপ্রাণীদের বাঁচানোর পেছনে খরচ করা উচিত। 

এদিকে দাবানল আতঙ্কে অঙ্গরাজ্যটিতে অনেকগুলো আতশবাজি উৎসব কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে সিডনির বিখ্যাত আতশবাজি অনুষ্ঠান বন্ধ করতে ইচ্ছুক নন শহরটির কর্তৃপক্ষ।  

সিডনির মেয়র ক্লোভার মোর এই পিটিশনকে সমর্থন করলেও উৎসব বন্ধে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘অন্তত ১৫ মাস ধরে এই উৎসবের প্রস্তুতি নেয়া হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজে বিশাল বাজেট খরচ হয়ে গিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই উৎসব বাতিল করলে সিডনির ব্যবসার জন্য বড় ক্ষতি হবে। নববর্ষ উপলক্ষে ১০ লাখ মানুষের ফ্লাইট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বুকড হয়ে গিয়েছে।’

এদিকে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক ও বন্যপ্রাণীদের রক্ষার্থে ৬ লাখেরও বেশি অস্ট্রেলীয় ডলার অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে উৎসবের আয়োজকেরা জানান।

এরপরেও আতশবাজি বন্ধে অনড় পিটিশনকারীরা। এমনকি শহরের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।  নিউ সাউথ ওয়েলসের ডেপুটি প্রিমিয়ার জন বারিলারো সোমবার এক টুইটবার্তায় জানান, আতশবাজি বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত