তুরস্ক হয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। তারা নৌ-পথে গ্রিসে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহত দুই যুবক হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের পাইগাঁও গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২) ও দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেচান গ্রামের জমসিদ আলী তালুকদারের ছেলে আলাল মিয়া তালুকদার (৪৬)। এছাড়া আব্দুল মালেক নামে আরও একজন নিখোঁজ আছেন।
নিহত মিজানুর রহমানের আত্মীয় ও শিক্ষক আবদুল মুকিত জানান, মিজানুর রহমানের এক ভাই ইতালি, আরেক ভাই গ্রিসে আছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে তুরস্ক যান। এরপর সেখান থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ২৫ ডিসেম্বর মারা যান।
আব্দুল মুকিত জানান, মিজানের এক খালাতো ভাই যুক্তরাজ্যে থেকে মঙ্গলবার তুরস্ক পৌঁছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ার করছেন বলে দেশে স্বজনদের জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় নিহত আলাল মিয়ার বড় ভাই কিরণ মিয়া জানান, আলাল মিয়া ১২ বছর ওমানে ছিলেন। এরপর ওমান থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে মারা যান।
এদিকে, ছাতকের জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মোঘলগাঁও গ্রামের আরশ আলীর ছেলে আবদুল মালেক (৩২) নামে আরও এক যুবক গত ১৭ ডিসেম্বর মরক্কো থেকে স্পিড বোটে করে স্পেন যাওয়ার পথে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মালেকের চাচাতো ভাই জাউয়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মতিন জানান, আট মাস আগে স্পেন যাওয়া উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেন আবদুল মালেক। এরপর তিরি মরক্কো যান। মরক্কো থেকে স্পিডবোটে করে স্পেন যাওয়ার পথে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি।
একই স্পিডবোটের যাত্রী ছাতক উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের আবুল হাসনাত স্পেন পৌঁছে ফোনে বিষয়টি মালেকের পরিবারকে জানিয়েছেন।
আবদুল মতিন বলেন, আমরা স্পেন ও মস্কোতে থাকা আত্মীয়দের মাধ্যমে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান এখনো পাইনি। আমরা জানি না মালেক বেঁচে আছে, কী নেই।
