বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ভারত। তাই এবার দেশটিতে ইংরেজি বর্ষবরণও হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী স্লোগানে বর্ষবরণ করেছে বিক্ষোভকারীরা।
ব্যতিক্রমী এই বর্ষবরণের মধ্যমণি ছিল দিল্লির শাহীনবাগ এলাকার বিক্ষোভকারীরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী স্লোগানে বর্ষবরণ করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী।
এনডিটিভি জানায়, গত ১১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যেই দিল্লির শাহীনবাগে দুই সপ্তাহ ধরে টানা বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই হলেন নারী।
অনেক নারী তাদের শিশু সন্তানকে বিক্ষোভস্থলে নিয়ে এসেছেন। তাঁবু টানিয়ে গায়ে কম্বল জড়িয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
সায়মা নামের ৩৩ বছর বয়সী এক নারী বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি- আমার শিশুদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। একজন মা হিসেবে আমি আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য এখানে বিক্ষোভ করছি। আমাদের অধিকার আমাদের দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘এটা কেবল আমার লড়াই নয়। এটা সংবিধান রক্ষা করার লড়াইও বটে। নথিপত্র সংরক্ষণে না থাকায় গোটা ভারতের অনেক মানুষ (এই আইনের কারণে) বিড়ম্বনায় পড়বে।’
নিজের এক বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বিক্ষোভে আসা আরেক নারী সাজিদা খান (২৪) বলেন, ‘আমি জামিয়া থেকে ২০১৪ সালে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি। জামিয়ায় ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নেই। প্রথম (নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে) এমন একটা ঘটনা ঘটল। আমি এর কড়া বিরোধী।’
সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। এতে বলা হয়েছে- মুসলিম ছাড়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে শরণার্থী হিসেবে হিন্দু, পার্সি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠে ভারত। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে। পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ গোটা ভারতে। এ বিক্ষোভে সহিংসতায় কমপক্ষে ২৫ বিক্ষোভকারী নিহত হন। সর্বাধিক ২৩ জন নিহত হন বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে।
