জনসম্মুখে নির্যাতন: ক্ষোভে অপমানে নারীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:২৩ পিএম

রাজশাহীর বাগমারায় জনসম্মুখে নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষোভে, অপমানে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ইউপি সদস্য আবদুল মজিদসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের ভাই আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে করিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে আক্তারুন নেছা (৩৮) নামে ওই নারীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

আক্তারুন নেছার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এক ছেলে ঢাকায় থাকে। আর মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন আক্তারুন নেছা। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের সঙ্গে তার অনেক দিন ধরেই বিরোধ ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, খেতের ফসল নষ্টের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবদুল মজিদ এবং তার সহযোগীরা আক্তারুন নেছাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাঠের মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সামনে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন করেন মজিদ ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে আক্তারুন নেছা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি গ্রামের একটি দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তা পান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত স্বজনরা বাগমারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাকে ভর্তি করেন। দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বুধবার রাতে আক্তারুন নেছার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বাগমারা থানায় মামলা করেন।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, তার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষোভে আর অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মামলা দায়েরের পর আবদুল করিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ইউপি সদস্য মজিদের ভাই। বাকি আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি জানান, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে নির্যাতনের কারণে ক্ষোভে অপমানে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে তাকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এটি আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। মামলায় বাদীও গাছে বাঁধার কথা দাবি করেননি। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত