সমাবর্তনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শাবিপ্রবি

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৭ পিএম

এক যুগের বেশি সময় পরে আয়োজিত সমাবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন করতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দিতে ক্যাম্পাসকে সাজানো হচ্ছে নতুন মোড়কে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে জোরেশোরে। ক্যাম্পাসের ভেতরের সড়কগুলো মেরামতসহ গোলচত্বর পুনর্নির্মাণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, বাহারি নকশার ফটকসহ সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞাতার্থে বিভিন্ন তথ্যসংবলিত নির্দেশিকা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এরই মধ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং সমাবর্তনের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দেশের ভিআইপি ব্যক্তিত্ব, সে হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের মতো করে নিরাপত্তার ব্যাপারটা দেখভাল করছে। আবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, সেগুলো আমরা পালন করছি।’

এদিকে গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মুজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ তুলে দিতে বেশ আগে থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারব।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন মোট ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ১ হাজার ১২৭, স্নাতক ৪ হাজার, পিএইচডি ডিগ্রিধারী ২, এমবিবিএস ৮৭৮, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ৬ ও নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এই সমাবর্তনে ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে সর্বোচ্চ ফলাফলের জন্য ১০, স্নাতকোত্তরে ৫ ও ২য় সমাবর্তনে বাকি থাকা ৫ স্বর্ণপদকসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। এ ছাড়া সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর ৮৯ শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে।

সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়টি জানাতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবর্তনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা ১৭টি উপকমিটি গঠন করেছি। প্রতিটি কমিটি সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনভর কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই সব কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, একটি সফল সমাবর্তন উপহার দিতে পারব শিক্ষার্থীদের।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান উপাচার্য।

১৯৯১ সালে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৮ বছরে মাত্র দুটি সমাবর্তন পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৯৯৮ সালের ২৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন এবং এর ৯ বছর পর ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

মূল অনুষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা : সমাবর্তনের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে মূল অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাসহ যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সমাবর্তনের দিন শুধু নির্দিষ্ট স্টিকারযুক্ত গাড়িগুলো ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও পার্কিং করার সুযোগ পাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় সমাবর্তনের প্রচার উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ফয়সল আহম্মদ এসব তথ্য জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত